হাতিয়ে নেয়া টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৩
সাতক্ষীরায় জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স এন্ড কমার্স এমসিএস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক হাতিয়ে নেয়া গ্রাহকদের জামানতকৃত প্রায় ১০ কোটি টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে গতকাল রবিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। গতকাল দুপুরে সাতক্ষীরা জজ আদালতের সামনে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের পলাশপোল এলাকায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকশ’ নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করেন। এসময় তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারের উচ্চ মহলের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সহযোগিতায় জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স এন্ড কমার্স লিঃ নামের প্রতিষ্ঠানটি সাতক্ষীরার গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অবিলম্বে তাদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পেতে এবং ঐ কোম্পানির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। এ ব্যাপারে গ্রাহকরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে একই দাবিতে তারা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মানববন্ধন চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা আরো জানান, প্রতি লাখে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৫ হাজার নিরীহ গ্রাহকের কাছ থেকে জামানত হিসেবে ১০ কোটি টাকা গ্রহণ করে এমসিএস লিমিটেড এর কর্মকর্তারা। বলা হয়েছিলো প্রতি লাখে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে লাভ এবং মাসের ৫ তারিখের মধ্যে মুনাফার টাকা তুলে নেয়া যাবে। কিন্তু প্রথম মাসে মুনাফা পাওয়া গেলেও পরবর্তী মাসে জেলা অফিসে মুনাফার টাকা উত্তোলন করতে এসে দেখেন দরজায় তালা এবং কর্মকর্তারাও উধাও হয়ে গেছে। জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার খামার পাড়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আবু বকর সিদ্দীক জানান, জীবিকার একমাত্র সম্বল ২ বিঘা জমি বন্ধক রেখে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা রাখেন ওই কোম্পানিতে। তিনি জানান, এলাকার জমিতে লবণাক্ত বৃদ্ধির কারণে তেমন ভালো ফসল হয় না। তাই অধিক লাভের আশায় তিনি শেষ সম্বলটুকু বন্ধক রেখে টাকা তুলে দেন জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স কর্মকর্তাদের কাছে। এখন সবকিছু হারিয়ে তিনি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মাদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, তদন্তে প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স এন্ড কমার্স এমসিএস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান ইউসুফ খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলামসহ ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে সাতক্ষীরা সদর থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স এন্ড কমার্স এমসিএস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলামকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে সাতক্ষীরায় আনা হলে গতকাল রবিবার তাকে সাতক্ষীরা আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।