গত ১লা ফেব্রুয়ারি মাননীয় স্পিকার মহান জাতীয় সংসদের ৭১ বিধিতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোচনা করতে গিয়ে সরকারি চাকরির প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার প্রস্তাব দেন। মাননীয় স্পিকারের প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্ররা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করার জন্য মানববন্ধনোত্তর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করে। তাছাড়া প্রতিদিনই বিভিন্ন পত্রিকার চিঠিপত্র কলামে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে অসংখ্য মানুষ এ বিষয়ে লেখালেখি করে আসছে। এ প্রেক্ষিতে গত ২রা সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করার সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কিন্তু গত ১৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় জানান, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের আপাতত নেই।
বিগত ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ডিগ্রি পাস কোর্স ও অনার্স কোর্সের মেয়াদ ১ বছর বৃদ্ধি করে যথাক্রমে ৩ ও ৪ বছর মেয়াদী করে। তাছাড়া সেশন জট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তো আছেই। ফলে একজন শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষাজীবন শেষ করতেই ২৭/২৮ বছর চলে যায়। শিক্ষাজীবন শেষ করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য যে সময়টুকু পাওয়া যায় তা বাংলাদশের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট নয়। যার ফলে অনেক শিক্ষার্থীর মেধা থাকা সত্ত্বেও তারা সরকারি চাকরিসহ অনেক বেসরকারি চাকরিতেও প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক কলম ছেড়ে তুলে নিচ্ছে অস্ত্র।
তাছাড়া গত ডিসেম্বরে যেহেতু সরকারি চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা দুই বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে সেহেতু প্রবেশের বয়সসীমাও বৃদ্ধি করা যুক্তিসঙ্গত। কেননা এতে করে আগামী দুই বছরের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট সংখ্যক পদ খালি হচ্ছে না। যদি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা না হয় তাহলে তেলা মাথায় তেল ঢালা, রুক্ষ মাথায় বেল ভাঙার শামিল হবে। তাই অনতিবিলম্বে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. সাজ্জাদ হোসেন, ধনবাড়ি, টাঙ্গাইল।
