নরসিংদীতে স্মরণকালের বৃহত্তম সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুর উপজেলার চৈতন্যা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে লালখারটেকে একটি যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে এবং আহতদের জেলা ও সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আশংকাজনক অবস্থায় আরো ৪ জনকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি দু’টি আটক করলেও বাসের ড্রাইভার পালিয়ে গেছেন। এ ব্যাপারে শিবপুর থানায় মামলা হয়েছে।
মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন: জামালপুরের মেলান্দহের ফারুক শেখ (২৮), তার ছেলে আরিফ (৮), চাঁদপুরের সাহেবগঞ্জের রফিক মিয়া (৪০), তার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বৃষ্টি (৯), কিশোরগঞ্জের যশোদলের মইচ উদ্দিন (৪৫), তার ছেলে অনিক(৭), ফেনীর ফুলগাজীর শফিউল্লাহ (৭০), মাসুদুর রহমান (৫০), সেলায়মান (৪৫) ও নান্নু মিয়া (৪৫)। নিহত অপর দুই জনের পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফুল, মনোয়ারা বেগম, রাহিমা বেগম, আরিফ মিয়াকে নরসিংদী জেলা হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঢাকার মিরপুর থেকে মাইক্রোবাসযোগে ১২ জনের একটি দল সিলেটে হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-৯৬৭৫) বেলা পৌনে বারটার দিকে লালখারটেকে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস ‘হাওর বিলাস’ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪৮৬২) এর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে রাস্তার পাশে একটি কড়ই গাছের সাথে প্রচন্ডবেগে ধাক্কা খেয়ে উল্টে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের ১০জন যাত্রী নিহত এবং বাস ও মাইক্রোবাসের ২০ জন যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে শিবপুর থানার ওসি কেএম ফিরোজ একদল পুলিশ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিত্সাধীন অবস্থায় নান্নু মিয়া মারা যান। অপারেশন থিয়েটারে গুরুতর আহত আরো চার জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন জেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শী বালক বাকির মিয়া জানায়, ঘটনাস্থলের অদূরে সে বন্ধুদেরকে নিয়ে ক্রিকেট খেলছিল। এ সময় হঠাত্ বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে ঘটনাস্থলে এসে হতাহতদের দেখে হতবাক হয়ে যায়। বাসের চালকের দোষেই এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু গতকালই জেলা হাসপাতালে নিহত ও আহতদের দেখতে যান। এ সময় নরসিংদীর জেলা পরিষদ প্রশাসক এড. আসাদুজ্জামান, জেলা প্রশাসক মো. ওবায়দুল আজম, পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেন হেলাল
দুর্ঘটনার শিকার মাইক্রোবাসের যাত্রী হিসেবে কিশোরগঞ্জের হেলাল উদ্দিনের সিলেট যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাইক্রোবাসে ১২ জনের বেশী জায়গা না হওয়ায় তাকে অন্য একটি বাসে তুলে দেয়া হয়। বাসটি পুরিন্দা নামক স্থানে পৌঁছলে তিনি মোবাইল ফোনে দুর্ঘটনা ও স্বজনদের মৃত্যুর খবর পান। অন্য বাসে থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান হেলাল। কিন্তু স্বজনদের এই করুণ মৃত্যু তিনি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। শুধু বিলাপ করছেন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পাওয়া এই যুবক।
