কন্যা রাশি

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৬
Vigro [ আগস্ট ২৩-সেপ্টেম্বর ২২ ] শাসক গ্রহ :বুধ। বৈশিষ্ট্য :মৃত্তিকা। সংখ্যা :৫। রং :হলুদ, সবুজ, ফিরোজা, অ্যাশ, সাদা। ধাতু :রুপা, প্লাটিনাম। রত্ন :পান্না, মুক্তা ও ওপাল। দিন :বুধবার। কন্যা ব্যক্তিত্ব লিও টলস্টয়, আল-বেরুনি, সোহরাওয়ার্দী, শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, এইচ জি ওয়েলস, ও হেনরি, মাইকেল জ্যাকসন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, দেং চিয়াং পেং, মাইকেল ফ্যারাডে, ডা. রাধাকৃষ্ণ, সম্রাট জাহাঙ্গীর, রিচার্ড অ্যাটেনবরো, জেনারেল ওসমানী, উত্তম কুমার। জে নে নি ন আ প নি কে ম ন ক ন্যা ? কন্যা হলো সতীত্বের প্রতীক, কিন্তু আক্ষরিকভাবে এটা বুঝে নেওয়াটা ঠিক হবে না। বিবাহিতই হোক কিংবা ব্যাচেলর, কন্যা জাতককে অনেকের মধ্যে শনাক্ত করে নেওয়াটা নেহাতই সহজ। তার একটা কারণ হলো কন্যা জাতকেরা নিশ্চুপ থাকতে পছন্দ করে। অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলার মানুষও সে নয়, বরং সে একাকী এক কোণায় স্থান নিয়েই স্বস্তিবোধ করে। কোনো ককটেইল পার্টিতে অতি সামাজিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার পরিবর্তে কন্যা রাশির জাতক-জাতিকারা বরং অফিসের কাজে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করে। কন্যা জাতকেরা জন্ম থেকেই একটি প্রবৃত্তি পেয়েছে যে তারা জনবহুলতা পছন্দ করে না, আর তাই তারা বেপরোয়া সামাজিক মেলামেশায় তেমন সাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। বাতাসে প্রাসাদ গড়তে কিংবা কাঠালের আমসত্ব বানিয়ে খাওয়াবার স্বভাব তাদের মধ্যে নেই। দিবাস্বপ্ন দেখবার মতো সময় কন্যাদের নেই, এবং আকাশে তারা খসা দেখে ইচ্ছা পোষণ করবার ক্ষেত্রেও সে খুবই ক্লান্ত। কন্যা জাতককে দেখে আপনার মনে তার সম্বন্ধে যে ধারণাটা প্রথমে উদ্ভব হবে সেটা হলো সে কোনো একটা বিশেষ সমস্যায় আছে এবং সমস্যাটার সমাধানের জন্যে চেষ্টা করছে। কিংবা মনে হবে সে গোপনে কোনো কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে। কন্যাদের মনে প্রাকৃতিকভাবেই দুশ্চিন্তা চলে আসে। কেউ হয়তো বলবে যে, দুশ্চিন্তা করাটা তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। তার চোখগুলোতে বুদ্ধিমত্তা আর চিন্তা-ভাবনার স্বচ্ছতা ঝলমল করে। তাদের অভিব্যক্তিতে এমন একটা প্রশান্ত ব্যাপার আছে যে সেটা তার নিজের ভেতরের গোপন দুশ্চিন্তাগুলোকে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম। তাদের অধিকাংশই অত্যন্ত আকর্ষণীয়, তাদের নাক তীক্ষ, কান, ঠোঁট সুন্দর। নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে সৌন্দর্যের কিংবা আকর্ষণের কোনো অভাব নেই, কিন্তু কিছু কিছু খারাপ মুহূর্তে তাদের আত্মঅহংকারের ছটা এসে লাগতে পারে। কন্যারা তাদের ফটোগ্রাফের ব্যাপারে অতিরঞ্জিত মনোভাব পোষণ করে, এবং নিজেদের চেহারা নিয়েও তারা চরম খুঁতখুঁতে। যদি তাদের মস্তিষ্কে কোনো চাপ না পড়ে তবে তারা তাদের সুচারু এবং সুদক্ষ কর্মক্ষমতা নিয়ে বেশ শান্তভাবেই কাজ সমাধা করতে সক্ষম। যেসব কন্যা জাতকেরা প্রায়ই ভ্রমণ করে তারা তাদের বহনযোগ্য ওষুধের বাক্সটা সাথেই রাখে। শুধু কিছু পিল এবং সিরাপের বোতলের জন্য প্রয়োজনে তারা একটা অতিরিক্ত স্যুটকেসও বহন করতে রাজি। যদি তারা কোনো একটা বিশেষ সাবান কিংবা লোশন ব্যবহার করে অভ্যস্ত হয় তবে তারা সেটাও সেই স্যুটকেসে ঢুকিয়ে দেবে। যদি এমন কোনো শহরে গিয়ে তারা আটকে পড়ে যেখানে তাদের প্রিয় প্রসাধন, কিংবা ওষুধটি পাওয়া যাচ্ছে না তাহলে সত্যিই এটা তাদেরকে এক বিরাট সমস্যায় ফেলে দেয়। কখনও কখনও কন্যা জাতকেরা নিজেদের পানি নিজেরাই বহন করে। পড়ে হাসবেন না, আপনি কি জানেন পানির মধ্যে বিদেশি পদার্থ যেগুলো থাকে সেগুলো আপনার পরিপাকে কি সমস্যা ঘটাতে পারে? এর উত্তর পাবেন কন্যাদের কাছ থেকে। কন্যারা বিড়াল, পাখি এবং ছোট, অসহায় জীব-জন্তু ভালোবাসে। তারা সত্যকেও ভালোবাসে, ভালোবাসে সময়ানুবর্তিতা, মিতব্যয়িতা, বিচক্ষণতা, এবং স্বাতন্ত্র্য পছন্দবোধ। তারা ঘৃণা করে লোক দেখানো আবেগ, ধুলা, অশ্লীলতা, অলসতা, এবং শুয়ে বসে কাটানো। তারা স্বভাবে খুবই বাস্তববুদ্ধিসম্পন্ন, তাদের মধ্যে চরম মাত্রায় বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়—তারাই সত্যিকার স্বাতন্ত্রবাদী, তাদের আগ্রহী উপলব্ধি তাদের আকাঙ্ক্ষাকে বাজে এবং বেদনাদায়ক ভাবনার সাথে যুক্ত করে না। কন্যাজাতকদের স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে একটা সুবাতাস প্রবাহিত হয় যেটা তাদেরকে বন্য এবং কাল্পনিক স্বপ্ন বা প্রত্যাশা থেকে মুক্ত রাখে। জীবনের বিশদ ব্যাপারগুলো তার উপর এসে চেপে বসবার আগেই যদি সে সেগুলোর দখলটা নিতে সক্ষম হয় তাহলে অন্যান্য রাশির আর সবার থেকেই জীবনে সফলতা লাভের সম্ভাবনা তার বেশি। বি শে ষ জ্ঞে র চো খে কে ম ন যা বে আ প না র ২ ০ ১ ৩ মৃত্তিকা রাশি কন্যার শাসকগ্রহ বুধ। বুধের প্রভাবে কখনও কখনও চঞ্চলতা ও অস্থিরতায় ভুগবেন। আবার কখনও কখনও সিদ্ধান্তহীনতা ও সবিরোধিতায় ভোগার আশঙ্কা আছে। শরীর-স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো থাকবে। মানসিক দুশ্চিন্তার জন্য অনেক সময় অসুস্থ বোধ করবেন। উচ্চ রক্তচাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য, হার্নিয়া ও পেটের নিচের দিকের কোনো ব্যাধিতে ভুগতে পারেন। অম্ল ও পিত্ত সংক্রান্ত ব্যাধি, চক্ষু সংক্রান্ত পীড়া প্রভৃতি দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এবং সংযত আহার ও প্রচুর পানি পান করলে শারীরিক অসুস্থতা এড়াতে পারবেন বলে আশা করা যায়। চাকরিজীবীদের জন্য বছরটি শুভ। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দশমে বৃহস্পতির থাকার ফলে কর্মস্থলে আপনার অবস্থান সুদৃঢ় হবে। অধীনস্থদের কাজে লাগানো সহজ হবে। কর্তৃপক্ষের মন রক্ষা করে চলতে পারবেন। চাকরিজীবীদের দায়িত্ব বৃদ্ধি বা পদোন্নতির সম্ভাবনা আছে। শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিত্সক প্রভৃতি পেশাজীবীদের জন্য বছরটি শুভ। ব্যবসায়ীদের জন্য বছরটি শুভ। ঠিকাদারি, রিয়েলস্টেট, কাঠের ব্যবসা প্রভৃতিতে লাভবান হতে পারেন। তবে যেকোনো ব্যবসায় এ বছর তীব্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে। ফলে কোনো প্রকার ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। খরচ কমাবার চেষ্টা করুন। তাহলে সঞ্চয়ের প্রচেষ্টায় সাফল্য আসবে। সামগ্রিকভাবে বিদ্যার্থীদের জন্য বছরটি খুব একটা শুভ নয়। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বাধা-বিঘ্নের সম্মুখীন হতে পারেন। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও চিকিত্সা শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের জন্য বছরটি মোটামুটি ভালো যাবে। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাত্রার সুযোগ পেতে পারেন। সরকারি কর্মকর্তা অথবা শিক্ষাবিদদের জন্য পেশাগত কারণেও বিদেশ ভ্রমণ হতে পারে। ধনস্থানে শনি ও রাহুর অবস্থানের কারণে আর্থিক দিক খুব একটা ভালো নাও যেতে পারে। বরং কোনো কারণে ঋণগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। মা-বাবার শরীর-স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো যাবে না। মায়ের চক্ষু সংক্রান্ত ব্যাধি, পেটের সমস্যা এবং বাবার হাইপারটেনশন বা হূদরোগের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। ছোট ভাই-বোনদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। দাম্পত্য ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত কোনো কিছু ঘটতে পারে। সুতরাং দাম্পত্যে ভুল বুঝাবুঝি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। বড় ভাই-বোনদের সাথে এ বছর সর্ম্পক ভালো থাকবে। অন্যান্য দিক মোটামুটি ভালো যাবে বলে আশা করা যায়।