বৃশ্চিক রাশি

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৭
Scorpio [ অক্টোবর ২৩-নভেম্বর ২১ ] শাসক গ্রহ :মঙ্গল। বৈশিষ্ট্য :পানি। সংখ্যা :৯। রং :নীল, ঘিয়ে, চকোলেট, সবুজ ও লাল। রত্ন :রক্ত প্রবাল, হলদে পোখরাজ ও ক্ষেত্রবিশেষে পান্না ও হীরে। ধাতু :লোহা ও ইস্পাত। দিন :মঙ্গলবার। বৃশ্চিক ব্যক্তিত্ব পাবলো পিকাসো, এজরা পাউন্ড, মাদাম কুরি, ম্যারাডোনা, বাদশা ফাহাদ, আলবেয়ার কামু, কিরো, গাদ্দাফী, মীর মোশারফ হোসেন, সম্রাট আওরঙ্গজেব, শামসুর রাহমান। জে নে নি ন আ প নি কে ম ন বৃ শ্চি ক ? অধিকাংশ প্লুটো-শাসিত বৃশ্চিক মানুষই শারীরিক দিক থেকে শক্ত-সমর্থ। তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষণীয়ভাবে দৃঢ়, তীক্ষ এবং পরিষ্কার। তাদের নাক হবে খাড়া, কখনও কখনও টিয়ার ঠোঁটের মতো। সাধারণত তাদের গায়ের রঙ হয় মলিন, যেন প্রায় স্বচ্ছ, এবং তাদের ভ্রু মোটা। তা নাকের উপরে এসে মিলিত হয়। বৃশ্চিকের উপস্থিতিতে আপনি মৃদু কোলাহল আর তীব্র গতিময় প্রাণশক্তির আভাস পাবেন, আর সেটাই আপনার কাছে তার পরিচয় তুলে ধরবে। সে যতই শান্ত থাকতে চাক না কেন তার এই তীব্র প্রাণ উদ্দীপনাকে লুকিয়ে রাখতে পারবে না। ব্যক্তিত্বের উপর এমন বৃশ্চিকের প্রবল নিয়ন্ত্রণ দেখে অনেককেই ঈর্ষাকাতরতায় ভুগতে হয়। যত তীব্রভাবেই তাদের আবেগে নাড়া লাগুক না কেন, বৃশ্চিকদের শীতল এবং ভাবলেশহীন মুখে সে ছাপ কমই দেখা যায়। এই মানুষগুলো স্বেচ্ছায় এবং গৌরবের সাথেই নিজেদের মুখে ভাবলেশহীনতা ফুটিয়ে তোলে। তাদের হাসি খুব দুর্লভ, তবে সেটা নিখাদ। তাদের শরীরও তাদের অভিব্যক্তির সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখে। হঠাত্ করে লাফিয়ে ওঠা, হঠাত্ যাত্রা শুরু করা কিংবা ভীত আচরণ করা এসব তাদের মধ্যে দুর্লভ। বিব্রতকর পরিস্থিতিতে যেমনি সে কুণ্ঠিত হয়ে উঠবে না তেমনি অহংকার করার মতো পরিস্থিতিতে ফুলেও উঠবে না। নিজের প্রতিক্রিয়াকে সে চরমভাবে দমিয়ে রাখে, কেননা বৃশ্চিক অন্যদের স্বভাব এবং উদ্দেশ্যকেই বিরামহীনভাবে খুঁজতে থাকে, এবং একই সাথে নিজেকে অন্যের সম্ভাব্য অনুসন্ধানী চোখের দৃষ্টি থেকে মুক্ত রাখে। এ ব্যাপারে সে অত্যন্ত দক্ষ। নিজের সমর্থন আদায়ের জন্য কিংবা অন্যদের মন জয় করার জন্য বৃশ্চিক কোনো মিথ্যা প্রশংসা করে না। তার মধ্যে তোষামোদ নেই। সে যখন ভালো কিছু বলে, সেটা সত্যিই ভালো এবং বিশ্বাস করার মতো। বন্ধু হিসেবে বৃশ্চিক পথের অনেক বড় বাধা অতিক্রমেও সাহায্যকারী। বৃশ্চিকের স্পর্শ হতে পারে শীতল, কোমল আবার গরমও। রাশির অবস্থান তাকে কয়েকটি পথের থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়। সে হয়তো রাত্রিচারী স্করপিওনের মতোই অন্যদেরকে আঘাত করে, এবং হয়তো সেই আঘাতের চরম তৃপ্তিটুকু উপভোগ করতে গিয়ে নিজের মৃত্যুই ডেকে আনে। কিংবা তার রাশির প্রতীক ঈগলের মতোই সেও সমস্ত পার্থিব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে যায় এবং নিজের শক্তি ও সামর্থ্যকে বিচক্ষণতার সাথে এবং ন্যায়পরায়ণভাবে ব্যবহার করে। বৃশ্চিকদের স্বাস্থ্য তাদের স্বভাবের প্রতিফলন ঘটায়। নিজের স্বাস্থ্য সে কঠোর পরিশ্রম করে কিংবা বিষণ্নতায় ভুগে নষ্ট করে ফেলতে পারে। কিন্তু জটিল কোনো রোগ থেকেও শুধু ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সে সেরে উঠতে সক্ষম। প্লুটোর ক্ষমতা এতই তীব্র বৃশ্চিকেরা তেমন একটা অসুস্থ হয় না, কিন্তু যখন তারা অসুস্থ হয়, তখন বেশ মারাত্মকভাবেই হয়। তাদের অসুস্থতায় আরোগ্যলাভের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো যথেষ্ট পরিমাণে বিশ্রাম নেওয়া, এবং অনুকম্পার তীব্র আগুন নিভিয়ে নিজের মন প্রশান্ত করে তোলা। বি শে ষ জ্ঞে র চো খে কে ম ন যা বে আ প না র ২ ০ ১ ৩ জলজ রাশি বৃশ্চিকের শাসকগ্রহ মঙ্গল। মঙ্গলের প্রভাবে বৃশ্চিকের জাতক/জাতিকা সাধারণত সাহসী ও নির্ভীক চিত্ত হয়ে থাকেন। এরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চরমপন্থী ও উচ্চাভিলাসী। বছরের প্রারম্ভে শুক্র এবং সপ্তমে শনির অবস্থানের ফলে বৃশ্চিকের জাতক/জাতিকার জন্য বছরটি শুভ। তবে দ্বিতীয়ে শনির দৃষ্টির ফলে আর্থিক ব্যাপারে কিছুটা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে এগোতে হবে। ব্যবসা এবং চাকরি উভয় ক্ষেত্রেই পারদর্শিতা দেখাতে পারবেন। পানির সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসায় ভালো করবেন। স্বাধীনচেতা মনোবৃত্তির জন্য চাকরিতে মন বসানো কঠিন হবে। মাঝে মাঝেই সহকর্মীদের সাথে অথবা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে মতবিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ ধরনের মতবিরোধের ফলে চাকরি ক্ষেত্রে তেমন একটা অসুবিধা নাও হতে পারে। মাঝেমধ্যে অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। ঠাণ্ডা ও শ্লেষ্মা জাতীয় ব্যাধি দেখা দিতে পারে। হার্নিয়ার সমস্যায় কষ্ট পেতে পারেন। অতিরিক্ত মসলা ও চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক সমস্যা এড়িয়ে যেতে পারবেন। দাম্পত্য সর্ম্পক মোটামুটি ভালো থাকবে। শত্রুদের তত্পরতা বৃদ্ধি পাবে। অনেক ক্ষেত্রে বন্ধু ও আপনজনেরাও শত্রুতা করবে। সন্তানের স্বাস্থ্যগত ব্যাপারে উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা দেখা দিতে পারে। সন্তানের পড়াশোনার ব্যাপারেও বিশেষ যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করুন। প্রেমের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটবার আশঙ্কা আছে। সামান্য ভুল বুঝাবুঝির জন্য বহু দিনের প্রেম ভেঙে যেতে পারে। অবিবাহিতদের বিয়ের ব্যাপারে বছরের প্রথম দিকটাই উত্তম। অনেকদিন থেকে যারা চেষ্টা করেও বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারছেন না, তারা একটু চেষ্টা করলেই এ বছর সফল হতে পারেন। বিদ্যার্থীদের জন্য বছরটি শুভ। বছরের শুরু থেকেই এ ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া বাঞ্চনীয়। কারিগরি বিদ্যা ও চিকিত্সা শাস্ত্রে এ বছর বিশেষ পারদর্শিতা দেখাতে পারবেন। উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ যাত্রার সম্ভাবনাও আছে। মানসিক অস্থিরতা পরিহার করতে পারলে অপ্রত্যাশিত কিছু অর্জন করা অসম্ভব হবে না। কোনো সন্তানের সাফল্যে আনন্দবোধ করবেন। বাবা-মায়ের শরীর-স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো যাবে না। এদের কেউ একজন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারেন। চিকিত্সার জন্য ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে। অন্যান্য দিক ভালো যাবে বলে আশা করা যায়।