মকর রাশি

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৭
Capricorn [ ডিসেম্বর ২২-জানুয়ারি ১৯ ] শাসক গ্রহ :শনি। সংখ্যা :৮। বৈশিষ্ট্য :মৃত্তিকা। রং :নীল, চকোলেট, ক্রিম, সবুজ। রত্ন :ইন্দ্রনীল, গোমেদ। ধাতু :লোহা, সীসা। দিন :শনিবার। মকর ব্যক্তিত্ব নিউটন, আইজাক আসিমভ, এডগার এলান পো, মোহাম্মদ আলী, জোয়ান অব আর্ক, শওকত ওসমান, স্টিফেন হকিং, আবদুল্লাহ আল মুতী, জয়নুল আবেদীন, জিয়াউর রহমান, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অটল বিহারী বাজপেয়ী, মির্জা গালিব। জে নে নি ন আ প নি কে ম ন ম ক র ? মকররা তাদের খাড়া এবং সুন্দর আকৃতির নাকটাকে অন্যের ব্যাপারে গলান না। শনি-শাসিত এই রাশির ব্যক্তিদের জিভটাকেও অন্যদের সমালোচনায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় না। তবে মকরদের উপর মিথুন বা মীনের প্রভাব থাকলে, তাদের মধ্যে সামান্য পরিমাণে অন্যদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে আগ্রহ দেখা যেতে পারে। কিন্তু সাধারণত তারা নিজেদের ব্যাপারেই নিমগ্ন থাকতে বেশি পছন্দ করে। তারা হয়তো যেচে পড়ে আপনাকে পরামর্শ দিতে যাবে না, কিন্তু আপনি যদি স্বেচ্ছায় তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের ভিত্তিতে কোনো পরামর্শ শুনতে চান তাহলে তারা তাদের পরামর্শ দিতে মোটেও দ্বিধা করবে না। মকররা দায়িত্ব এবং কর্তব্যবোধ মেনে চলতে শিখেছে আর হতাশাকেও সহ্য করে থাকতে জানে। শনি-শাসিত মকরের মাঝে একটা বিষণ্নতা লক্ষ করা যায়। এদের মাঝে একটা ক্ষীণ আভাস আর গাম্ভীর্যের সমন্বয় লক্ষ করা যায়। তাদের কেউই শনির প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। এ কারণে তাদের মধ্যে খুবই নিয়মানুবর্তিতা এবং আত্ম-অস্বীকৃতির প্রবণতা লক্ষ করা যায়। মকরদের দেখলে মনে হয় তারা যেন মখমলের কাঁথার মতোই নিরীহ। কিন্তু কাঠের টুকরোর উপরে চোখা তারকাঁটার মতোই তারা রুক্ষ। তারা অবিরত অবিরাম অপমান, চাপ এবং হতাশার বোঝা হজম করে চলে। কিছু কিছু মকর রয়েছে যারা আনন্দদায়কভাবে রোমান্টিক। তারা চাঁদের অদ্ভুত সুন্দর আলোটাকে উপভোগ করতে পারে। প্রজাপতির পাখার অপূর্ব সুন্দর রঙগুলোর মর্যাদা দিতে জানে। কিন্তু তারা আবেগের বশবর্তী হয়ে বাস্তবতা ভুলে যাওয়ার মানুষ নয়। অন্তত যদি তারা শনির বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সাধারণ জাতক হয় তাহলে তো নয়ই। যদি মকর কল্পনাপ্রসূত এবং ঘোরলাগা একটা সুন্দর কবিতা লেখে তবে সেটার থিমটা হবে খুব বাস্তবভিত্তিক। আর দাঁড়ি-কমাগুলোও হবে সঠিক। কিছু কিছু মকরের মধ্যে নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে রাখার ব্যাপারে অসতর্কতা দেখা যেতে পারে। এদেরকে শীর্ষপদে অভিষিক্ত না করা হলে কাজ করার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানায়। তখন সে জেদি মকর হয়ে ওঠে। সে চায় যে, মইয়ের সবচেয়ে উপরের তাকটাতেই সে দাঁড়াবে! কেননা সেখানে দাঁড়ানোর যোগ্যতা কেবল তারই আছে। মকর জাতক এবং জাতিকাদের অধিকাংশেরই ত্বক হয় খুব সংবেদনশীল। স্নায়ুবিক চাপের দরুণ সৃষ্ট ফুটি ফুটি, অ্যালার্জি, চামড়া ওঠা এবং ত্বকের রুক্ষতা, ঘামের অস্বাভাবিকতা, এ্যাকনি এবং বড় লোমকূপের সমস্যায় তাদের ভুগতে হতে পারে। শরীরের সঙ্গে মানানসই নয় এমন খাবার গ্রহণে এবং মানসিক চাপের ফলে তাদের পরিপাকে সমস্যা দেখা দিতে পারে। হাঁটুর জোড়ায়, অস্থি-সন্ধি এবং অস্থি হলো তাদের দুর্বল স্থান। বি শে ষ জ্ঞে র চো খে কে ম ন যা বে আ প না র ২ ০ ১ ৩ মৃত্তিকা রাশি মকরের শাসকগ্রহ শনি। শনির প্রভাবে মকরের জাতক/জাতিকা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সন্দেহপ্রবণ এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতি আগ্রহী অথবা চরম ধর্মদ্রোহী হয়ে থাকেন। এরা অপ্রিয় সত্য বলতে কখনও দ্বিধাবোধ করেন না। বছরের শুরুতে মকরে তুঙ্গী মঙ্গল এবং সপ্তমে চন্দ্র থাকার ফলে সামগ্রিকভাবে বছরটা ভালো যাবে বলে আশা করা যায়। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বৃহস্পতি ধর্মস্থানে দৃষ্টি দিলে আর্থিক দিক ক্রমশ ভালো হয়ে উঠতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বছরটি নানা উত্থান-পতনের ভেতর দিয়েই এগোবে। সাফল্য লাভের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করতে হতে পারে। কর্মস্থানে তুঙ্গী শনি এবং রাহুর অবস্থানের জন্য কাজকর্মে নানা ধরনের বাধার সৃষ্টি হবে। চাকরিজীবীদের জন্য বছরটি খুবই ঝামেলাপূর্ণ হতে পারে। কর্মস্থলে বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হবে। যার ফলে কাজকর্মে তাদের সহযোগিতার আশা না করাই ভালো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের কেউ কেউ শত্রুতামূলক আচরণও করতে পারে। মা-বাবার শরীর-স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো যাবে না। চতুর্থে কেতু এবং দশমে শনি রাহুর অবস্থিতির ফলে মা-বাবার চোখের সমস্যা, ডায়াবেটিস, বাত জাতীয় সমস্যা প্রভৃতি দেখা দিতে পারে। মায়ের কোনো ধরনের অস্ত্রোপচারের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নিজের শরীর-স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো যাবে না। স্নায়ুবিক দুর্বলতা, রক্তচাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি দেখা দিতে পারে। দুশ্চিন্তা, আবেগ ও ক্রোধকে প্রশমিত করার চেষ্টা করুন। দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সর্তক থাকতে হবে। সন্দেহপ্রবণ ও ভাবপ্রবণতা দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারে। পারিবারিক জীবনে ক্রোধকে দমন করে বাস্তববাদী হোন। তাহলে সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে ভালো থাকতে পারবেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বছরের প্রথমার্ধ ভালো যাবে। বছরের শেষ দিকটা শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা জটিল ও সমস্যাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। পরিশ্রম ও নিয়মিত পড়াশোনার দ্বারা নিজের ভবিষ্যত্ গড়ার জন্য নিজেকেই সচেষ্ট থাকতে হবে। একটু মনোযোগী হলেই ভালো করবেন। এ বছর ভ্রমণের যোগ প্রবল। বেড়াবার জন্য অথবা তীর্থগমনের উদ্দেশে দলবদ্ধ হয়ে যদি ভ্রমণের উদ্যোগ নেন তবে সাফল্য আশা করতে পারেন। এতে মানসিক শান্তি খুঁজে পাবেন। অন্যান্য দিক ভালো যাবে বলে আশা করা যায়।