আমার বাংলা বই

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৮
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন সিনিয়র শিক্ষক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা প্রিয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমরা যারা গত বছরের বই দেখেছো তার সাথে এ বছরের বইয়ের তেমন কোনো উলে¬খযোগ্য পার্থক্য নেই। তাই ভয় পাবারও কিছু নেই। আজ আমি তোমাদেরকে বাংলা বই সম্পর্কে তথ্য ও উপাত্তের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখাবো। পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বই সম্পর্কে বাণী হলো—‘বাংলা ভাষা শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যেন শ্রেণিভিত্তিকঅর্জন উপযোগী যোগ্যতা আনন্দময় পরিবেশে আয়ত্ত করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকটি প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীকে শিখনে আগ্রহী করা ও নির্ধারিত শিখনফল অর্জনে সহায়তা করার লক্ষ্যে পাঠ্যপুস্তকটি পরিকল্পিত হয়েছে। এতে জীবন ও পরিবেশভিত্তিক এবং যুগের চাহিদার অনুকূল সহজ পাঠ প্রণয়ন করে সংগতিপূর্ণ চিত্র সন্নিবেশিত হয়েছে। পাঠে শব্দ ও বাক্য সন্নিবেশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বয়স, মেধা ও গ্রহণক্ষমতা যেমন বিবেচনা করা হয়েছে তেমনি বৈচিত্রময় করার দিকেও লক্ষ রাখা হয়েছে। পাঠকে যথাসম্ভব নির্ভার করার জন্য ব্যবহূত হয়েছে সহজ ও সাবলীল বাক্য।’ এবার এসো বইটি সম্পর্কে আমরা একটু সমীক্ষা করি| গত বছর বাংলা বইয়ের নাম ছিলো আমার বাংলা বই পঞ্চম ভাগ। এবার একই নামে রয়েছে শুধু পঞ্চম ভাগকে করা হয়েছে পঞ্চম শ্রেণি। মজার ব্যাপার হলো তোমাদের জন্য সরকার নীতিগতভাবেই শিক্ষাব্যবস্থা সহজ করার ও আনন্দমুখর করার চেষ্টা করছেন তা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। শিক্ষার গুণগতমান ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে এ ধরণের শিক্ষা পদ্ধতির প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি। গত বছর তোমাদের বাংলা বইকে ৩০টি গল্প কবিতায় সাজানো ছিলো এবং সেখানে সিলেবাস ছিলো বড়। যার ফলে শিক্ষার্থীরা বাংলা বিষয়ে ভয় পেতো এবং প্রায়শই বাংলাতে সময়ের অভাব দেখা দিতো। এবার তোমাদের সিলেবাস অনেক কম করা হয়েছে। মাত্র ২৩টি অধ্যায়কে শিরোনাম করে ১২৫পৃষ্ঠাতেই বইটি শেষ করা হয়েছে। এবারেই বাংলা বইয়ে গতবারের চেয়ে কিছু মজার বিষয় প্রবেশ করানো হয়েছে যার ফলে শিক্ষাথীরা শুধুই শেখার জন্যই বই পড়বে না; বই এখন শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন হাসির খোরাকও মেটাবে। ভাবগত দিক থেকে গতবারের বইয়ের সাথে এবারের বাংলা বইয়ের মিল রয়েছে কিন্তু সিলেবাসকে টেনে কমানো হয়েছে এটি একটি ভালো দিক। গতবার পদ্য ছিলো ১২টি এবার পদ্য এসেছে ১০টি আর গদ্য ছিলো ১৮টি এবার তা কেটে আনা হয়েছে ১৩টিতে। তাহলে ভাবো কত ছোট সিলেবাস করা হয়েছে। তাছাড়া গদ্য বা পদ্যে নতুন কিছু বিষয় প্রবেশ করানো হয়েছে যা তোমাদের কোমলমতি হূদয়ের জন্য খুব কাজে লাগবে। বর্তমান বাংলা বিষয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে যে পরিবর্তন করা হয়েছে তা অবশ্যই তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক বটে। সৃজনশীল ধারা বিকাশের জন্য এবার বাংলা বইয়ে নতুন কর্ম অনুশীলন দেওয়া হয়েছে। মেধা বিকাশের জন্য যে শুধু পাঠ্যপুস্তকই যথেষ্ট নয় তা এবার তোমাদেরকে পাঠ্য পুস্তক অবলম্বনেই বোঝানো হয়েছে। এখন থেকে তোমাদের নিয়মিত খবরের কাগজ, টেলিভিশন বা বেতারের সুখ-দুঃখের খবর রাখতে হবে এবং তা শ্রেণিতে অন্যান্য বন্ধুদের পাঠ করে শোনাতে হবে; কর্ম-অনুশীলনীর অন্যান্য কাজ যথা নিয়মে পালন করতে হবে। খুব সহজ সরলভাবে নতুন কিছু বাংলা শব্দ তোমরা এবারকার বাংলা বই থেকে শিখতে পারবে আর একটি মজার ব্যাপার হলো, তোমাদের পাঠ্যপুস্তকে এবার যে নতুন গদ্য বা পদ্য এসেছে তার কিছু বিষয়ের সাথে তোমাদের পূর্ব পরিচয়ও ছিলো। এই যেমন ধরো, স্বদেশ বা প্রার্থনা কবিতাটি তোমরা আগে পড়ে এসছো। তাছাড়া যারা গত বছরের বই নিজেরা বাসায় আগেই পড়ে রেখে ছিলে তাদেরও বেশ উপকার হয়েছে এই যেমন ধরো—সংকল্প, শখের মৃিশল্প, অপেক্ষা বিষয়গুলো হুবহু পাঠ্যে থেকে গেছে। তাছাড়া এবার চিঠিপত্র লেখার সাথে আবেদন পত্র বিষয়টি তোমাদের লিখতে হবে এবং শিখতে হবে। নতুন কিছু রচনার সাথে তোমাদের সাক্ষাত হবে। তাছাড়া সকল ক্ষেত্রেই নতুন বিষয়গুলো তোমাদেরকে অনেক আনন্দ দেবে। বছরের শুরু থেকেই এ বিষয়টি তোমাদেরকে অতি গুরুত্বের সাথে পড়া দরকার কারণ সমাপনী পরীক্ষাতে এ বিষয় অতি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর করতে হয়। বছরের শুরুতে যদি তোমরা গল্প কবিতাগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারো তাহলে দেখবে পরে যখন মডেলটেস্ট দিবে তখন বিষয়টি তোমাদের কাছে কত সহজ মনে হচ্ছে। অথচ বাংলা বিষয়টিকে অনেকে পরে পড়বো বলে রেখে দেই এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে বেশি বেশি সময় কাটায় কিন্তু মনে রাখা খুবই জরুরি যে, সৃজনশীল প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রতিটি বিষয়কেই চ্যালেঞ্জ মনে করে সে বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। বাংলার ক্ষেত্রে অবশ্যই আধুনিক বানান সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে এবং বেশি বেশি লিখতে হবে। বেশি না লিখলে বাংলা বিষয়ে সব প্রশ্নের উত্তর অনেক সময় দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। এবার নতুন বই। প্রতিটি গল্প কবিতা তোমাদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বিষয়কে তোমাদেরকে অতি সতর্কতার সাথে অধ্যয়ন করতে হবে। কবিতাগুলোকে বছরের শুরুতেই মুখস্থ করে রাখবে এবং মাঝে মাঝে তা লেখার চেষ্টা করবে কারণ বার বার চর্চা না করলে তোমার জানা জিনিসও ভুলে যেতে পারো অনায়াসেই। গল্পগুলো কাহিনীনির্ভর; এগুলোকে তুমি বার কয়েক দেখে দেখে পড়বে কারণ সিলেবাস বেশি বড় না, ভয় পাওয়া কোনোভাবেই যাবে না। এবার তোমাকে ব্যাখ্যা লেখা শিখতে হবে, হবে রচনা ও ব্যাকরণের কিছু নতুন বিষয় শিখতে, চিঠি পত্র ও আবেদনপত্রও এবছর শিখতে হবে। তাছাড়া মানবণ্টন আমরা হাতে পেলেই সেটা অবশ্যই পত্রিকার বরাত দিয়ে তোমাদের কাছে পোঁছে দেবো। খুব তাড়াতাড়ি তোমরা প্রশ্নকাঠামো ও মানবণ্টন পেয়ে যাবে। জিপিএ সম্পর্কেও তখন আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবো। বছর শুরু থেকে তোমার প্রচেষ্টা হোক আরও গতিশীল, স্বর্ণালিসাফল্যে তুমি আরও এগিয়ে যাও এই শুভ কামনা রইলো।