গত কিছুদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ টেলিকম যন্ত্রাংশ নির্মাতা হুয়াওয়ে’র বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হুয়াওয়েকে তাদের রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ বলেও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অস্ট্রেলিয়াতেও হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। এবারে নতুন আরেক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে। ইরানে নিষিদ্ধ যন্ত্রাংশ সরবরাহের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ২০১০ সালে ইরানে হুয়াওয়ের একটি অংশীদার প্রতিষ্ঠান সেই দেশে নিষিদ্ধ এইচপি’র কিছু কম্পিউটার যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য প্রস্তাব করে, যার মূল্যমান ছিল ১.৩ মিলিয়ন ইউরো বা ১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এইচপি’র এই যন্ত্রাংশগুলো ইরানে সরবরাহের উপর যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিল। হুয়াওয়ে’র এই অংশীদার প্রতিষ্ঠানটি ছিল হংকংয়ের স্কাইকম। মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি অব ইরান বা এমসিআই-এর কাছে স্কাইকম এসব যন্ত্রাংশ সরবরাহ করার প্রস্তাব দেয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তদন্তে এই অভিযোগ বেরিয়ে আসে। এই অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর পরই অবশ্য হুয়াওয়ে এর সাথে সংশ্লিষ্ট নয় বলে জানায়। স্কাইকমও এই ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলেই জানায় হুয়াওয়ে। রয়টার্সের তদন্তে যেসব কাগজপত্র নিয়ে কাজ করা হয়েছে, সেগুলো ‘হুয়াওয়ে কনফিডেন্সিয়াল’ হিসেবেই চিহ্নিত করা ছিল। এতে হুয়াওয়ের লোগোও ব্যবহার করা হয় বলেই জানিয়েছে রয়টার্স। এমসিআই-এর সাবস্ক্রাইবার বিলিং সিস্টেমকে উন্নত করার জন্যই এই কাগজপত্রে কিছু যন্ত্রাংশের নাম ও মূল্য উল্লেখ করা হয়। আর এর মধ্যেই ছিল এইচপির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যেমন, সার্ভার, ডিস্ক অ্যারে, সুইচ, সফটওয়্যার প্রভৃতি। এই কাগজগুলো হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে নিলামের জন্য প্রদত্ত কোটেশন হিসেবেই উল্লেখ করা হয় এবং হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে স্কাইকম এটি দাখিল করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এদিকে দীর্ঘদিন থেকেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের তৈরি কম্পিউটার যন্ত্রাংশ রপ্তানির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সেই হিসেবে এইচপি’র কোনো যন্ত্রাংশ ইরানে সরবরাহ করার অধিকার নেই হুয়াওয়ের। কিছুদিন আগেই অবশ্য হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে আমেরিকান কিছু অ্যান্টেনা যন্ত্রাংশ ইরানে সরবরাহের চেষ্টারও অভিযোগ আনে রয়টার্স। ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেলিকম অপারেটর এমটিএন-এর কাছে এই যন্ত্রাংগুলো সরবরাহ করার চেষ্টা চালায় হুয়াওয়ে এবং সেই প্রচেষ্টায় তাদের অংশীদার প্রতিষ্ঠান ছিল কমস্কোপ। সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে হুয়াওয়ে’র অবস্থান ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়ছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ টেলিকম যন্ত্রাংশ নির্মাতা হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা হুয়াওয়ের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
