চার রঙা পাঠ্য বইয়ের দেশজুড়ে উত্সব আজ

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৯
দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ফল প্রকাশ শেষ। আর ভর্তি প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হোক বা না হোক যারা পাস করেছে সবাই নতুন ক্লাসে উঠবে। খালি হাতে স্কুলে যাবে। আর নতুন বই নিয়ে সবাই বাড়ি ফিরবে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে আজকের এই দিনটি। এ বছর তিন কোটি ৬৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৭২ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২৭ কোটি বই বিতরণ করা হবে। বছরের প্রথম দিন আজ সারা দেশের স্কুলে স্কুলে হবে চার রঙা এই পাঠ্যবইয়ের উত্সব। শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে বই উত্সবের উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন কারিকুলাম চালু হচ্ছে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই। নতুন কারিকুলামে ১১১টি পাঠ্যবই প্রণয়ন করা হয়েছে। এই কারিকুলাম অনুযায়ী মাদ্রাসাসহ সবধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ৬৫০ নম্বরের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনমুখী ও নৈতিক শিক্ষা দিতে ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এই শিক্ষাক্রম চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের ৫২৫ জন বিশেষজ্ঞ দীর্ঘদিন শ্রম দিয়ে নতুন এই কারিকুলাম তৈরি করেন। চলতি বছর এটি পরীক্ষামূলক সংস্করণ হিসাবে দেখা হচ্ছে। ভুলভ্রান্তি থাকলে পরে সংশোধন করা হবে। গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন। আজ সকাল ১১টায় ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেন্দ ীয়ভাবে পাঠ্যপুস্তক উত্সবের উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, শিক্ষা সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান উর রশীদ উপস্থিত থাকবেন। এবার প্রাথমিকে ১০ কোটি ৭৮ লাখ ৬২ হাজার ৭১৪টি, ইবতেদায়ীতে এক কোটি ৭২ লাখ ১ হাজার ৪০টি, মাধ্যমিকে ১১ কোটি ৪৮ লাখ ২১ হাজার ৩৩১টি, মাদ্রাসায় দুই কোটি ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৪০টি এবং কারিগরিতে ১৩ লাখ ২৮ হাজার ৪৮১টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া বছরের প্রথম দিনই সরকারের ই বইয়ের ওয়েবসাইট www.ebook.gov.bd এবং এনসিটিবির ওয়েবসাইট www.nctb.gov.bd থেকে সব বই বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যাবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার নির্ধারিত পাঠ্যসূচির বাইরে অন্য বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোনো স্কুল অতিরিক্ত বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে কিনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তার তালিকা করা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রথমবারের মতো এবার মাধ্যমিক স্তরের (৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণী) শিক্ষার্থীদের চারটি সহায়ক বই বিনামূল্যে দিচ্ছে এনসিটিবি। ফলে শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত চড়া দামে খোলা বাজার থেকে আর নিম্নমানের সহায়ক বই কিনে পড়তে হবে না। সহায়ক বই চারটি হলো ইংরেজি ব্যাকরণ ও রচনা, মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ, বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি এবং রচনা সম্ভার। মাধ্যমিক স্তরেও অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুগের চাহিদাকে পূরণ করতে গিয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন, প্রজনন স্বাস্থ্য, অটিজম, তথ্য অধিকারসহ নতুন বেশকিছু বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয় তিনটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।