মুহিত-মবিনকে নিয়ে তৃণমূলে অসন্তোষ

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৯
জাতীয় সংসদের সিলেট-১ আসনটিকে অত্যন্ত ‘মর্যাদাপূর্ণ আসন’ বলে অভিহিত করা হয়। কারণ এ আসনে যে দলের প্রার্থী জয় লাভ করেন সে দলই ক্ষমতায় যায়। গত কয়েক দশক ধরে অন্তত তাই ঘটে এসেছে। এ জন্য এ আসনটির জন্য দলগুলো সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ভেবেচিন্তে সতর্কতার সাথে প্রার্থী নির্বাচন করে। গত সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। নির্বাচনের ঢের সময় বাকি থাকলেও এবারও হয়তো তাকেই প্রার্থী করা হতে পারে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী হিসাবে বেগম জিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের ভাইস েচেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু বড় দুই দলেরই তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এই দুই ‘হেভিওয়েট’ নেতার কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। তারা বিকল্প প্রার্থী খোঁজার কথাও ভাবছেন । দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাজোটের প্রার্থী আবুল মাল আব্দুল মুহিত তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে রীতিমত বেকায়দায় আছেন। ১৮ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী শমশের মবিন চৌধুরীও সমালোচনা থেকে মুক্ত নন। দু’দলেরই নেতাকর্মীরা একই সুরে বলেছেন, ‘জনবিচ্ছিন্ন’ কাউকে দলের মনোয়ন দিলে ভরাডুবি হবে। দলগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করেন, শুধু যোগ্যতা দেখলে চলবে না। জনপ্রিয়তার বিষয়টিও এবার ভেবে দেখতে হবে। তারা বলেন, ক্লিন ইমেজ, জনদরদী, সিদ্ধান্ত দানে বলিষ্ঠতা, জনবান্ধব প্রার্থীই উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবার। তারা মনে করেন, এবার শুধু ‘পালের হাওয়া’ কাজ করবে না। দু‘দলের নীতি নির্ধারকরাও মনে করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার আসনটি কোনভাবেই হারানো যাবে না। যে করেই হোক সিলেটের এই আসনটি চাই-ই। কিন্তু কোন দলেরই এই আসনটির প্রার্থী এখনো স্পষ্ট নয়। দলীয় সূত্র জানায়, গত ২২ নভেম্বর গণভবনে মতবিনিমিয়কালে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝেড়েছেন সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। তারা বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে অর্থমন্ত্রীর। এ দূরত্ব কমানো দরকার। তারা আগামী নির্বাচনে জনবিচ্ছিন্ন কাউকে মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে মনোয়ন না দেয়ার জন্যও সভানেত্রীর কাছে অনুরোধ জানান। অনেকেই মনে করেন, গত নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতির বিপরীতে অর্থমন্ত্রী মুহিতের উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে না। শুরু থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব রেখে আসছেন। তবে এ-ও বলা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত হয়তো হাইকমান্ড মুহিতকেই মনোনয়ন দিতে পারেন। মুহিত নিজেও ঘোষণা দিয়েছেন আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তিনি প্রার্থী হবেন। তবে দলে তৃণমূলের অনেকেই আগামী এমপি প্রার্থী হিসাবে সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানা গেছে। কারণ কামরান টানা ৪০ বছর থেকে জনপ্রতিনিধি। পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন নির্বাচনে তিনি জয় লাভ করেছে। তার নিজস্ব ভোট ব্যাংকও রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, কামরানই হবেন বিকল্প যোগ্য প্রার্থী। এছাড়া এ আসনে সিলেট আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, অর্থমন্ত্রী জনবিচ্ছিন্ন নয়। তিনি নেতাকর্মীদের নিয়েই আছেন। তার সময়ে সিলেটে কোটি কোটি টাকার কাজ হচ্ছে। সব বিবেচনায় এ আসনে আবুল মাল মুহিতই যোগ্য প্রার্থী। এদিকে বিএনপি নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর সিলেট-১ আসনে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেন বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ আসনের সাবেক এমপি এম ইলিয়াছ আলী। কিন্তু ইলিয়াস নিখোঁজের পর সিলেটে বিএনপির নেতৃত্বে দেখা দেয় শূন্যতা। সেই শূন্যতা কাটিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন জৈন্তা-গোয়াইনঘাটের সাবেক এমপি দিলদার হোসেন। এছাড়া টিপাইমুখসহ বিভিন্ন আন্দেলোনের কাজে শমসের মবিন সিলেটে আসা শুরু করেন। তখন থেকে অনেকেরই ধারণা, শমসের মবিন বুঝি সিলেট-১ আসনের প্রার্থী হবেন। এ অবস্থায় মরহুম সাইফুর রহমানের অনুসারীদের মবিন কাছে টেনে নেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বৈধ কমিটি রেখে ভুয়া পদবিধারীদের নিয়ে সমাবেশ করছেন। এতে দলের ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে। বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতা জানান, বিএনপি নির্বাচনে গেলে এই আসনে শমসের মবিন চৌধুরী বীর বিক্রমই দলীয় মনোনয়ন পাবেন। আবার অনেকেই বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের স্ত্রী ডা.জুবাইদা রহমানের কথাও বলেছেন। এছাড়া সিলেট জেলা বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মরহুম খন্দকার আব্দুল মালিকের পুত্র শিল্পপতি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নামও শোনা যাচ্ছে দলীয় প্রার্থী হিসাবে। এ সব বিষয়ে বিএনপি নেতা শমসের মবিন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘নির্বাচনের অনেক দেরি। সময় আসলে নির্বাচন অবশ্যই করবো। মাঠে কাজ করে যাচ্ছি সবাইকে নিয়েই। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে-তা সত্য নয়।’