মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৯
গেল বছর দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। তবে কিছু ভালো দিকও ছিল। এমন পর্যবেক্ষণ মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের। গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্যই জানিয়েছেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট সুলতানা কামাল। এছাড়া বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। লিখিত বক্তব্যে সুলতানা কামাল বলেন, দেশে সংস্কৃতি চর্চার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় মুক্তিযুদ্ধের ধারার সংস্কৃতি বিকাশের আবহ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপটি হলো যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং তাদের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকা। অন্যান্য নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন- ২০১২, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন ও দান সংক্রান্ত আইন-২০১২ এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন-২০১১-এর বাস্তবায়নের আলোকে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হওয়া। এ ছাড়া উচ্চ আদালতের রায়ে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অপরাধীদের ক্ষমা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত উচ্চ আদালতের পরীক্ষার এখতিয়ারে আনা- একটা গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক। ২০১২ সালে বিদ্রোহের ঘটনার বিচার বিডিআর আইনে সম্পন্ন হলেও নারকীয় হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারী আইনে বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সুলতানা কামাল বলেন, এতদসত্ত্বেও ২০১২ সালে সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। গত বছরের ন্যায় ২০১২ সালেও বছরব্যাপী দেশের বিভিন্ন স্থানে গুম, গুপ্তহত্যা, ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত ছিল। এ বছরে বিনা বিচারে আটক, পুলিশের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ছিল বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। ২০১২ সালে দেশে জঘন্যতম সাম্প্রদায়িক হামলা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফে বৌদ্ধমন্দিরসহ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার পাশাপাশি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও পটিয়া, যশোর, ঝিনাইদহ, বাগেরহাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এবং রংপুরে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক মানবাধিকার লংঘন ও হতাহতের ঘটনা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ২০১২ সালে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ছিল গত বছরের তুলনায় বেশি। বিগত বছরগুলোর ন্যায় ২০১২ সালেও ঘটেছে নারী নির্যাতনের অনেক ঘটনা। এছাড়া বিরোধীদলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূিচ মোকাবেলায় সরকার কর্তৃক বল প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে এবং বিরোধীদলেরও রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সহিংসতা গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছরের এক পর্যায়ে গণতন্ত্রের অন্যতম দু’টি স্তম্ভ বিচার বিভাগ ও সংসদ মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ায়, যা সুশাসনের নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।