আমার প্রিয় বই

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৪১
সমাজে কেবল নিষ্ঠুর অত্যাচারীই থাকে না, থাকে বহু কোমলমতি মানুষ। অন্যায়ের, শোষণের অট্টালিকা একদিন ভেঙে পরবেই। মানুষ নিরীহ মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবেই। কোন মহান মানবের প্রাণের বিনিময়ে হয়তো দেখা মেলে কাঙ্ক্ষিত মুক্তির। এমনই এক মহামুক্তি ঘটে এক মানবতার। নীরব আর্তনাদের প্রতীকী চরিত্রের এই ছবি যা বিশ্বে যাদুকরী কলমের সাহায্যে তুলে ধরেন বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজি সাহিত্যিক হ্যারিয়েট বীচার। আজও বিশ্বে তিনি সমানভাবে সমাদৃত ‘আঙ্কল টমস কেবিন’ এর জন্য। আঙ্কল টমস কেবিন পড়ে মানবতাবাদী মানুষদের হূদয় হুঁ হুঁ করে কেঁদে ওঠে। যা তাদের প্রতিবাদী হতে সাহায্য করে, এক পর্যায়ে গড়ে তোলে আন্দোলন। শুরু হয় মানবের বেড়ী খুলে দেয়ার যুদ্ধ। ভাই হয়ে ভাইয়ের পায়ে শেকল দিয়ে ক্ষেতে চড়াব এ শিক্ষাতো জন্মভূমি, স্রস্টা শেখাননি এমনই এক গল্পে যিনি আসীন তিনি হলেন হ্যারিয়েট বীচারের আঙ্কল টম। বাংলায় আমরা তাকে টমচাচা বলে জানি। গল্পে টমচরিত্র এত জীবন্ত যে মনে হয় আমার নিজের কোন চাচা। কিন্তু এ টম ছিলেন দেড়শ বছর আগের একজন ক্রীতদাস। প্রথম জীবনে শোলবি নামক মালিকের তুলাখামারের কেনা দাস ছিলেন। বড় সোজা সরল ছিলেন তিনি। অসুরের মত পরিশ্রম করতে পারতো বলে শোলবির পরিবারের সবার সাথে সাথে অন্যান্য ক্রীতদাসরাও তাকে খুব ভালবাসতো। আদর করে ডাকতো টমচাচা। স্বাধীনতার জন্য গোপন আফসোস থাকলেও বাইরে বেজায় হাসিখুশি মানুষ তিনি। তার মতো ক্রীড়াদাসদের দুঃখ ভোলাবার জন্য গান গাইতেন। শোলবির আর্থিক অনটন দেখা গেলে তাকে বিক্রি করা হয় পাষণ্ড হ্যালি নামক ক্রীতদাস ব্যবসায়ীর কাছে। সন্তানের করুণ পরিণতির কথা ভেবে স্ত্রী এবং সন্তানকে পাঠিয়ে দেয় কানাডায়। শোলবি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতায় নিজে পালাননি। আশৈশবের কেনটাকি ছেড়ে অসহায়ত্বের সাথে ভাগ্যের ওপর নিজের জীবন ছেড়ে দেয়। জীবনের নানা বৈচিত্র্যতায় একটু সুখের পরশ এলেই পরক্ষণেই তা শূন্যে বিলিয়ে যায়। ইভা নামের ছোট্ট খুকির সাথে পরিচিতিতে জীবনে সাময়িক প্রশান্তি এলেও, ইভা এবং ইভার বাবা সেন্ট ক্লেয়ারের মৃত্যুতে স্বাধীনতার সাধ পেয়েও পাননি তিনি। জীবনের শেষ পর্যায়ে সাইমন লেগ্নি নামক আর এক পাষণ্ড মনিবের কাছে ভাগ্য তাকে ঠেলে দেয়। সেখানে পশুর মত খাটানো হতো দাসদাসীদের। পরিশ্রমী টমের কাজ দেখে লেগ্নি তাকে ক্রীতদাসদের সর্দার বানিয়ে দেয়। লেগ্রি ভেবিছিল, টম তার মত অত্যাচার করে কাজ করাবে অন্য ক্রীতদাসদের। অথচ ঘটনা হল উল্টো। বিপদে আপদে তিনি সবাইকে সাহায্য করতে লাগলো। এমিলিন নামক একটি মেয়েকে সাহায্য করার জন্য তাকে ভীষণ মারধোর করা হয়। তবুও এমিলিনের পালিয়ে যাওয়া সম্পর্কে মুখ না খোলায় অত্যাচারী লেগ্রি হিংস্র জন্তুর মতো ফুঁসে ওঠে। এরপর লেগ্রি তার পালিত ষণ্ডামার্কা লোকদের দিয়ে জখম হওয়া শরীরে আরো মার দিলো। এরও অনেক পরে টম চাচার মত নিরীহ এক ক্রীতদাসের মুখ থেকে প্রতিবাদের বাণী বেরিয়ে আসে। অত্যাচারের পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। অত্যাচারে অত্যাচারে সবল দেহক্রমশই ভেঙে পড়ে। সেই হাসিমুখে আর হাসি দেখা যেত না, গান শোনা যেত না। নিবু নিবু হয়ে আসা প্রদীপের মত জীবন নিয়ে যেন কারো অপেক্ষা করছেন। সেই শোলবি পরিবারের বড়ছেলে জর্জের অক্লান্ত পরিশ্রমে টমচাচার সন্ধান মেলে। সে তাদের ভালোবাসার টমচাচাকে নিয়ে যেতে চায়। ওদিকে টমচাচার শেষ সময়। টমচাচা চলে যায় কিন্তু আমূল পরিবর্তন করে দিয়ে যায় সে দাস প্রথার মত ঘৃণ্য প্রথার। বইটিতে টমচাচার চরিত্রে এত জীবন্ত বলেই এটি আমার খুব প্রিয় বই। যা আমাকে তত্কালীন সময়ের দাসপ্রথা সম্পর্কে জানায়। এই বইটি পড়ার জন্য আমি সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার প্রিয় স্কুল বিভাগটি আগামী সংখ্যা থেকে নিয়মিত ছাপা হবে