বিশ্বের সর্বোচ্চ টাওয়ার

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৪২
আরব উপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউ.এ.ই। এ দেশটি ছিল এক সময় ধূ-ধূ মরুভূমি। মরুভূমিতে বাস করতো যাযাবর আরব। তাদের মূল জীবিকা ছিল কৃষি কাজ আর পশুচারণ। মরুভূমির বুকে মরুদ্যানে তারা বাস করতো। মরুদ্যানে সামান্য গম আর ভুট্টার চাষ হতো। যাযাবর আরবরা একই জায়গায় বেশি দিন অবস্থান করতো না। তারা যে অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতো, আবহাওয়া ঠান্ডা পরিলক্ষিত হতো, সেই অঞ্চলের দিকে ছুটে যেত। তাদের জীবন ছিল অনেকটা অনিশ্চিত। সেই অনিশ্চিত জীবন আজ আর নেই। যে দেশটা ছিল শুধুই মরুভূমি আর সেই মরুর বুকে গড়ে উঠেছে সুবিশাল অট্টালিকা, বিলাসবহুল হোটেল, নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকত, রিসোর্ট, অত্যাধুনিক এয়ারপোর্ট, শিশুপার্ক, এরাবিয়ান জাদুঘরসহ অনেক কিছু। আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবী। সাতটি আমিরাত বা প্রদেশ নিয়ে পুরো দেশটি গঠিত। এগুলো হল আবুধাবী, দুবাই, সারজাহ, আজমান, রাস আল খাইমাহ, উম আল কোয়াইন এবং ফুজাইরাহ। এর জাতীয় দিবস আমাদের মত ডিসেম্বর মাসে, ২রা ডিসেম্বর, ১৯৭১। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল নগরী হল দুবাই। বিশ্বের সর্বোচ্চ টাওয়ার দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা। শেখ জায়েদ রোডে অবস্থিত দুবাই মলের পাশে এই বুর্জ খলিফা টাওয়ারটি অবস্থিত। একশ সত্তর তলা বিশিষ্ট আটশ’ মিটার উঁচু চমত্কার নির্মাণশৈলীতে সমৃদ্ধ। আমাদের জাতীয় স্মৃতি সৌধের ন্যায় এটিও নিচ থেকে ঊর্ধ্বমুখে সরু হয়ে উঠেছে। এ ভবনে রয়েছে সুপার মার্কেট, পাঁচ তারকা হোটেল, কফি শপ, জিম, ফুড কোর্ট এবং আবাসিক ফ্লাট। বুর্জ খলিফার ১২৪ তলার অবজারভেশন বা ওয়াচ ডেক থেকে পুরো দুবাই শহরকে এক নজরে দেখা যায়। স্বর্ণের দোকান, ফাস্টফুড শপ, আর এয়ারপোর্টের প্রায় সর্বত্র রয়েছে যাত্রীদের জন্য বিশ্রাম কক্ষ বা ওয়েটিং লাউঞ্জ। দুবাই এয়ারপোর্টের এক টার্মিনাল থেকে অন্য টার্মিনালে যাবার জন্য রয়েছে ট্যাক্সি ক্যাবের ব্যবস্থা। আকর্ষণীয় চিড়িয়াখানা দুবাই চিড়িয়াখানার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর পরিচালকসহ অধিকাংশ কর্মচারী বাংলাদেশি। দুবাই চিড়িয়াখানার বর্তমান প্রধান হলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট প্রাণিবিজ্ঞানী ড. রেজা খান। আগে চিড়িয়াখানাটি ছিল ছোট পরিসরে। ড. রেজা খানের অক্লান্ত পরিশ্রমে তা ধীরে ধীরে বৃহত্ আকার ধারণ করে। মরুভূমির তাপমাত্রা পাখিসহ অনেক প্রাণীর বসবাসের অনুপযোগী। তাই বিশেষ ব্যবস্থায় বাঘ, সিংহ, হরিণদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের ন্যায় প্রাণিগুলোকে উন্মুক্তভাবে রাখা হয়নি। কারণ প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া তা প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ কারণে আমাদের ঢাকার চিড়িয়াখানার মত তা খাঁচার ভেতর রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এদেরকে ঠান্ডা হাওয়া বা ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা করা হয়। চিড়িয়াখানার প্রবেশ ফি জনপ্রতি মাত্র দুই দিরহাম বা পঞ্চাশ টাকা। প্রতিদিন অসংখ্য শিশু কিশোর এখানে বেড়াতে আসে। দুবাই শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে বাসে বা ট্যাক্সি ক্যাবে জুমেরাহ রোডে অবস্থিত এ চিড়িয়াখানায় আসা যায়। বাস ভাড়া জনপ্রতি পাঁচ দিরহাম। বাস ভ্রমণে বেশি আরামদায়ক। কারণ এ দেশের সকল পাবলিক বাস শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, টিভি স্ক্রীন ও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দ্বারা সজ্জিত। বাসে ভ্রমণের জন্য কোন টিকেটের ব্যবস্থা নেই। নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকা দিয়ে মেশিন রিডেবল কার্ড কিনতে হয়। সেই কার্ড পাঞ্চ করে বাসে উঠতে হয়। প্রতিবার কার্ড পাঞ্চে দুই দিরহাম খরচ হবে। এই দুই দিরহামে শহরের একমাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত ভ্রমণ করা যায়।