বিক্ষিপ্ত সহিংসতা, বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে হামলা, ভোটারদের ভয় দেখানোর মতো ঘটনা ও অভিযোগের মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে ৯ রাজ্যের ৭২ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এসব আসনে ভোটার ছিলেন প্রায় ১০ কোটি। আর প্রার্থী ছিলেন ৯৪৩ জন। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে বিজেপির জন্য প্রকৃত চ্যালেঞ্জের শুরু হয়েছে এ ধাপ থেকেই। ৭২ আসনের মধ্যে ৫৬টিতেই ২০১৪ সালে জিতেছিল বিজেপি ও এনডিএ জোট। কিন্তু এবার রাজস্থান ও মধ্য প্রদেশের মতো ঘাঁটিতেই জেতা আসন ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিজেপিকে। কারণ গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এসব রাজ্যে জিতেছে। চার ধাপ মিলিয়ে মোট ৩৭৪ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলো। আগামী ১৯ মে ভোটগ্রহণ শেষ হবে, আর গণনা হবে ২৩ মে।
গতকাল পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে ভোটগ্রহণের সময় বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সে সময় বারাবানিতে একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে বিজেপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে কিছু বুথে বিরোধীদলের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এ আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হলেন চিত্রনায়িকা মুনমুন সেন। সুপ্রিয়র ওপর হামলার ব্যাপারে তিনি বলেন, ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছে, এজন্য হামলার বিষয়ে কিছু জানি না। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের দুবরাজপুরে বুথে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলকোটে দুটি বুথের ইভিএমে তৃণমূলের প্রতীকে আতর লাগিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর ভোটারদের আঙুল পরীক্ষা করা হয়। আঙুলে আতরের গন্ধ থাকলে ধরে নেওয়া হয়, তৃণমূলে ভোট দিয়েছেন।
এদিন মুম্বাইয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন অমিতাভ বচ্চন, শচীন তেন্ডুলকার, রেখা, শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান, কাজল, অজয় দেবগন, সোনালী বেন্দ্রে, অনুপম খের, উর্মিলা মাতন্ডকারসহ বলিউডের বহু অভিনেতা, অভিনেত্রী। গতকালের ভোটে ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যাবে নরেন্দ্র মোদির সরকারের মন্ত্রী গিরিরাজ সিং, মিলিন্দ দেওরা, বাবুল সুপ্রিয়, সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া, উপেন্দ্র কুশাওয়ারের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরে গতকাল এক জনসভায় বলেছেন, তৃণমূলের ৪০ এমএলএ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর অনেকে পালাবেন।
