জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার পাঠ নির্দেশনা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৪
সাধারণ বিজ্ঞান টাইমুর-আল-মোবারক প্রভাষক (পদার্থবিজ্ঞান), ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, নতুন বছরের শুরুতেই সবার জন্য রইল শুভ নববর্ষের শুভেচ্ছা। নতুন বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই হাতে পেয়ে মনটা নিশ্চয়ই পুলকিত? নতুন বইতে যেসকল অধ্যায় সংযোজিত হয়েছে তার প্রায় সবগুলোই নতুন কিংবা আংশিক পরিবর্তিত। তবে, তোমাদের জন্য খুশির কথা এই যে, নতুন বইতে অধ্যায় সংখ্যা অনেক কম। পূর্বের বইতে অধ্যায় সংখ্যা যেখানে ছিল ২৬ টি, সেখানে বর্তমানে তোমাদের বইতে থাকছে মাত্র ১৪ টি (!)। কী?... আশ্চর্য লাগছে? একটু মনে হয় ভালোও লাগছে তাই না? তবে নতুন সংযোজিত অধ্যায়গুলো কিন্তু একেবারে যথার্থ, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অধ্যায়গুলো সম্পর্কে ধারণা দেয়ার নিমিত্তে তোমাদের উদ্দেশ্যে একটি তুলনামূলক চিত্র নিম্নের সারণীতে দেয়া হলো- বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে। নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে আজকের বিজ্ঞান। আর বিশ্বজগতের অগ্রসরতার কল্যাণে যুগের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি দেশ তথা জাতি সেই প্রতিযোগীতায় তাল মিলিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে অনবরত। সেই প্রতিযোগিতার দৌড়ে আমরাও আছি বলেই আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই নিত্য-নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যক্রমের সম্মুখীন হয়ে থাকি। সুতরাং, নতুন বইয়ে সংযোজিত ২/১ টি কঠিন অধ্যায় নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন প্রয়োজন নেই। এগিয়ে যাও অদম্য সাহস নিয়ে। তোমাদের এই অদম্য পথচলায় তোমরা আমাদেরকে পাশে পাবে । চোখ রাখবে অনুশীলন পাতায়। সবার জন্য রইলো দোয়া ও শুভকামনা। প্রশ্নের মানবণ্টন থাকছে পূর্বের মতোই। তথাপি তোমাদের জ্ঞাতার্থে তা পুনরায় নিম্নে উপস্থাপিত হলো- সৃজনশীল অংশঃ পূর্ণমান-৬০ প্রশ্নের শুরুতে একটি উদ্দীপক থাকবে এবং এর অধীনে বিভিন্ন দক্ষতাস্তরভিত্তিক ৪টি প্রশ্ন থাকবে, যথা- ক. জ্ঞানমূলক....................... ১ নম্বর খ. অনুধাবনমূলক................... ২ নম্বর গ. প্রয়োগমূলক................... ৩ নম্বর এবং ঘ. উচ্চতর চিন্তন দক্ষতামূলক- ৪ নম্বর । এভাবে প্রতিটি প্রশ্নের মোট নম্বর থাকে (১+২+৩+৪) = ১০। মোট ৯টি/১০টি প্রশ্ন থাকবে, তন্মধ্যে ৬টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে (৬x১০) = ৬০ নম্বর। নৈর্ব্যক্তিক অংশঃ পূর্ণমান-৪০ মোট ৪০ টি প্রশ্ন থাকবে, ৪০ টি প্রশ্নেরই উত্তর করতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান-১ x৪০x১) = ৪০ নম্বর। নতুন বইতে ক্রম অধ্যায়ের নাম পুরাতন বইতে ক্রম মন্তব্য প্রথম অধ্যায় প্রাণি জগতের শ্রেণীবিন্যাস ((( নতুন দ্বিতীয় অধ্যায় জীবের বৃদ্ধি ও বংশবৃদ্ধি ((( নতুন তৃতীয় অধ্যায় ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রশ্বেদন ((( নতুন চতুর্থ অধ্যায় উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি পঞ্চদশ অধ্যায় পরিবর্তিত ও সংযোজিত পঞ্চম অধ্যায় সমন্বয় ও নিঃসরণ ((( নতুন ষষ্ঠ অধ্যায় পরমাণুর গঠন প্রথম অধ্যায় পরিবর্তিত ও সংযোজিত সপ্তম অধ্যায় পৃথিবী ও মহাকর্ষ অষ্টম অধ্যায় আংশিক পরিবর্তিত অষ্টম অধ্যায় রাসায়নিক বিক্রিয়া তৃতীয় অধ্যায় আংশিক পরিবর্তিত নবম অধ্যায় বর্তনী ও চলবিদ্যুত্ ত্রয়োদশ অধ্যায় আংশিক পরিবর্তিত ও সংযোজিত দশম অধ্যায় অম্ল, ক্ষারক ও লবণ চতুর্থ অধ্যায় প্রায় অপরিবর্তিত একাদশ অধ্যায় আলো দ্বাদশ অধ্যায় পরিবর্তিত ও সংযোজিত দ্বাদশ অধ্যায় মহাকাশ ও উপগ্রহ ((( নতুন ত্রয়োদশ অধ্যায় খাদ্য ও পুষ্টি ((( নতুন চতুর্দশ অধ্যায় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র অধ্যায়-১৭ ও ১৮ আংশিক পরিবর্তিত ও সংযোজিত বাংলা মো.জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা ক্যান্ট. পাবলিক গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা স্নেহের পাঠকবন্ধুরা, আজ আমি কথা বলব অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় অষ্টম শ্রেণি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান বা ক্ষেত্র। তার মধ্যে অতীব গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলা বিষয়টি। বিগত বছরগুলোতে এবং সম্প্রতি প্রকাশিত ২০১২ সালের জে.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষার্থী যারা এ+ পায়নি, তাদের এ+ না পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো বাংলায় এ+ নম্বর না পাওয়া। এজন্য যে সকল বন্ধুরা আগামী বছরে অর্থাত্ ২০১৩ সালে জে এস সি পরীক্ষা দেবে তাদেরকে অবশ্যই বছরের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলা বিষয়ে গুরুত্বসহকারে পড়াশুনা করতে হবে। জে এস সি-তে বাংলা বিষয়ে ভালোফল করার জন্য বইয়ের সকল গদ্য ও পদ্যের প্রতিটি লাইন অত্যন্ত মনোযোগ ও যত্নসহকারে অর্থসহ জেনে বুঝে পড়তে হবে। কোনো লাইনকে অবহেলা করা যাবে না। সৃজনশীল সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে এবং ব্যাপক অনুশীলন করতে হবে। জ্ঞানমূলক ও নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের জন্য লেখক পরিচিতি, উত্স, পাঠ পরিচিতি, শব্দার্থ ও টীকা সবসময় মুখস্থ রাখতে হবে। অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য প্রতিটি লাইনের অর্থ ভালোভাবে জানতে হবে যাতে সহজেই বিশ্লেষণ করা যায়। পঠিত গদ্য ও পদ্যে পটভূমি ভালো করে জানা প্রয়োজন যাতে প্রয়োগমূলক ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নগুলো সহজবোধ্য হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ভালো প্রুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। কেননা বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয়পত্রে নম্বর একত্রে যোগ হয়। সেক্ষেত্রে প্রথম পত্র ও দ্বিতীয়পত্র যোগে এ+ প্রাপ্তি কিছুটা সহজ হয়। বাংলা দ্বিতীয়পত্রের লিখিত অংশের সিলেবাস অপেক্ষাকৃত কম হলেও ব্যাকরণ বা নৈর্ব্যক্তিক অংশ কম নয়। সুতরাং প্রথম থেকেই বাংলা ব্যাকরণ অংশ ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। ব্যাকরণের প্রতিটি অধ্যায় ভালোভাবে পড়তে হবে। শিক্ষকের কাছ থেকে প্রতিটি পরিচ্ছেদ বুঝে নিতে হবে নিজ দায়িত্বে। অনুশীলনীর প্রশ্নগুলোর সমাধান করতে হবে। না পারলে অভিজ্ঞ শিক্ষকের সাহায্য নিতে হবে। শিক্ষার্থীবৃন্দ, উপর্যুক্ত প্রস্তুতি নিতে পুরো বছর জুড়ে আমরা থাকব তোমাদের পাশে। পত্রিকার পাতায় চোখ রাখ তোমাদের অজানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে। পুরোটা বছর তোমাদের ভালো কাটুক, তোমরা সুস্থ ও সুন্দর থেকে ভালোভাবে পড়াশুনা করে সুন্দর ভবিষ্যতের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে সেই প্রত্যাশা রাখি। ইংরেজি ১ম ও ২য়পত্র এস. এম. মুরাদ হোসেন সিনিয়র শিক্ষক, ইংরেজি বিভাগ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ,পিলখানা, ঢাকা। প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা,অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা । আশা করি তোমরা সকলেই ভালো আছো। নতুন ক্লাস, নতুন বই। আর তাই নতুন উদ্যমে শুরু হোক নতুন শিক্ষাবর্ষ। এই শিক্ষাবর্ষে তোমাদের ইংরেজি পাঠ্যসূচীতে যুক্ত হয়েছে কিছু নতুন বিষয়। প্রশ্নের ধারা এবং নম্বর বণ্টনেও এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। ইংরেজি প্রথমপত্রে সম্পূর্ণ নতুন Syllabus, নতুন Lesson । Reading Test এবং Writing Test এর পাশাপাশি এখানে যুক্ত হয়েছে Listening & Speaking Part। এটি অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। কারণ এই অংশটি তোমাদেরকে ইংরেজি শুনতে এবং ইংরেজিতে কথা বলা শিখতে উত্সাহিত করবে। ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রে Grammar শিক্ষার পাশাপাশি Writing Test এর ক্ষেত্রেও এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। Formal & Informal Letter writing এর পাশাপাশি E-mail writing, CV writing অত্যন্ত সময়োপযোগী। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে E-mail অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই E-mail কিভাবে লিখতে হয়, কিভাবে আদান প্রদান করতে হয় সে সম্পর্কিত জ্ঞান থাকা আবশ্যক। কর্মক্ষেত্রের জন্য অবশ্যই CV writing সম্বন্ধে জানতে হবে। এই বিষয়গুলো তোমাদের জন্য নতুন হলেও এগুলো অত্যন্ত সহজ। তোমরা ক্লাসে একটু মনোযোগী হলে অনায়াসেই এগুলো শিখতে পারবে। পরিশেষে বলতে চাই, NCTB প্রবর্তিত এই Curriculum অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও আধুনিক। তোমরা মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করলে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারবে। তোমাদের জন্য শুভ কামনা রইল।