ধামইরহাটে ৫ হাজার শিক্ষার্থী পানিকষ্টে

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২২
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় ১০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৪টিতে নলকূপ নেই। এতে বিদ্যালয়গুলোর ৮ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫ হাজার শিক্ষার্থী পানীয় জলের সংকটে ভুগছে। তৃষ্ণা পেলে শিক্ষার্থীদের পানির জন্য ক্লাস ফেলে আশপাশের দোকান ও বাড়িতে যেতে হয়। কবে নাগাদ এসব বিদ্যালয়ে পানির সংকট লাঘব হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা। সরকার শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে কোন কোন উপজেলায় দুপুরে বিস্কুট দেয়া শুরু করেছে। যা এখনও ধামইরহাট উপজেলায় শুরু হয়নি তবে অতি তাড়াতাড়ি শুরু হবে বলে শিক্ষা কর্মকর্তা জানান। এদিকে খাবার পানির সংকটের ফলে উপজেলার প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ধামইরহাটে ৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩০টি, ৪৪টি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪টিতে নলকূপ নেই। আবার কিছু বিদ্যালয়ের নলকূপ অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। সেগুলো আর কাজে আসছে না। উপজেলার দেবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তছের উদ্দিন বলেন, স্কুলে টিউবওয়েল (নলকূপ) নেই। দূর থেকে কলসি ও বোতল ভরে পানি আনতে হয়। নিকেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র মমিনুর ও ছাত্রী হেলাল জানায়, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নলকূপ আছে পানি নেই প্রায় দুই বছর হলো। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। নলকূপটি প্রায় সময় নষ্ট থাকে। তৃষ্ণা পেলে আইসক্রিম খেয়ে পানির তৃষ্ণা মেটাই। নিকেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শৈলেস তপ্ন ও সহকারী শিক্ষক নুরুন নেছা বলেন, প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে বিশুদ্ধ পানি এনে রাখতে হয়। একই অবস্থা উস্তমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। সেখানে গিয়ে দেখা যায় নলকূপ নেই। ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওসমান গনি বলেন, পানির সমস্যা আমাদের কেউ সমাধান করতে পারেনি। ঐ স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী রাবেয়া ও ৫ম শ্রেণীর ছাত্র হূদয় জানায়, পানির কষ্টে আমরা দোকান থেকে কিছু কিনে খেতেও পারি না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের চেয়ে বেশি বেকায়দায় আছেন তারা। আশপাশের বাড়ি থেকে পানি এনে চলতে হয়। ধামইরহাট উপজেলার রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর সৈয়দা খুরশিদা পারভীন স্কুলের পানি সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেছি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পানির জন্য অনেক কষ্ট করছে।