সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর এলাকায় অবৈধভাগে গড়ে ওঠা একটি ইটভাটায় সরকারি খাস জমির মাটি কেটে ইট তৈরি করা হচ্ছে। ওই জমিতে এলাকার লোকজন তাদের গবাদি পশু চরাতো। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এই অবৈধ ইটভাটার মালিক শাহজাদাপুর গ্রামের মো. কালা মিয়ার ছেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. রফিক মিয়া। শাহজাদাপুর গ্রামের সমাজকর্মী মো. মামুন মিয়া জানান, রফিক মিয়া আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বৈধ কোনো কাগজপত্র ছাড়াই এই ইটভাটায় ইট তৈরি করছেন। ক্ষমতার দাপটে এলাকার খাস গোচারণ ভূমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. মফিল মিয়া খাদেম বলেন, সরকারি খাস জমির মাটি কেটে ওই ইটভাটায় দীর্ঘদিন ধরে ইট তৈর করা হচ্ছে। স্থানীয় ভূমি অফিসের লোকেরা বিষয়টি জেনেও নীরব রয়েছেন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহজাদাপুর কান্দি গোচারণ ভূমি থেকে তিনটি টাক্টর দিয়ে মাটি কেটে আনা হচ্ছে ‘কালা মিয়া’ ইটভাটায়। টাক্টর চালক জেলা শহরের মেড্ডা এলাকার ইয়াছিন মিয়ার ছেলে মো. মালু মিয়া এবং একই এলাকার সওদাগর আলীর ছেলে মো. ইরন মিয়া জানান, রফিক মিয়ার নির্দেশে তারা গত কয়েকদিন ধরে এখান (হাওরে খাস গোচারণ ভূমি) থেকে মাটি কাটছে। মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের দেওবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হকের ছেলে আওয়াল মিয়া, গোলাম আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন, হীরা মিয়ার ছেলে জয়নাল, বাচ্চু মিয়ার ছেলে রুবেল, সুরুজ মিয়ার ছেলে মিস্টার আলী, জজ মিয়ার ছেলে মানিক মিয়াসহ অন্য শ্রমিকেরা জানান, এটি সরকারি জায়গা না ব্যক্তিগত জায়গা তা আমাদের জানা নেই। রফিক মিয়ার নির্দেশে আমরা এই জায়গা থেকে মাটি কেটে নিচ্ছি।
এ বিষয়ে রফিক মিয়া বলেন, ‘কালা মিয়া’ ইটভাটার কাগজপত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আয়করসহ প্রতিবছরই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে টাকা-পয়সা দিয়েই এই ইটভাটায় ইট তৈরি করা হচ্ছে। তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ আছে আমার। খাস জায়গা থেকে মাটি কেটে আনার বিষয়টি স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা অবগত আছেন। তিনি বাধা দিলে প্রয়োজনে ওই স্থান থেকে আর মাটি কেটে আনবো না।
শাহজাদাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘কালা মিয়া’ ইটভাটার কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। সরকারি জায়গা থেকে মাটি কেটে নেয়ার বিষয়টি জেনেছি। এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনে মামলা করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান খাঁন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।
