বিক্ষোভ দিয়ে শুরু নতুন বছরের শেয়ারবাজার

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৬
দরপতন আর বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ২০১৩ সালের শেয়ারবাজার। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাজারে যে দরপতন চলছে তা বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিনিয়োগ-কারীরা শেয়ারবাজার নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের দেয়া আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানান। বিনিয়োগ-কারীরা বলেন, বাজার স্থিতিশীলতায় বিএসইসি (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন), ব্যাংক, বীমা ও ব্যাংক মালিকরা যেসব আশ্বাস দিয়েছেন তার অনেক কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আস্থাহীনতা ও তারল্য সঙ্কট তীব্র হয়ে গত দুই বছর দরপতনের মধ্য দিয়েই কেটেছে। লেনদেনও নেমে গেছে অনেক নিচে। বিনিয়োগকারীরা বলেন, আর যেন বিক্ষোভ করতে না হয় সে জন্য বাজারকে স্থিতিশীল করতে হবে। এ বছরও দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা দেউলিয়া হয়ে যাবে। আর সর্বস্ব হারিয়ে বাজারে বিলীন হয়ে গেলে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি উঠানোর এ মাধ্যমটিও বন্ধের উপক্রম হবে। তাই অতিসত্বর বাজারের স্থিতিশীলতায় সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এদিকে গতকাল ২০১৩ সালের শুরুর দিনটি দরপতনের মধ্য দিয়ে কেটেছে। ডিএসইর তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল বাজারে সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২৮ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ১৯০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৫৩ কোটি ৪০ লাখ ২১ হাজার ৯৫৩ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ৯৬ কোটি ৯ লাখ টাকা কম। বাজারের সুসময়ে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল দেড় থেকে ২ হাজার কোটি টাকা। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, তারল্য সঙ্কট ও আস্থা সঙ্কটের কারণেই বাজারে লেনদেন কমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, পুঁজি হারিয়ে গত বছর একাধিক বিনিয়োগকারী আত্মাহুতি দিয়েছেন। অনেকে চাপ সইতে না পেরে হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি বন্ধে বাজারকে স্থিতিশীলতায় নিয়ে আসতে হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন বিনিয়োগকারীরা। ২০১২ সাল জুড়ে দরপতন ও লেনদেন কমার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে তা থেকে শেয়ারবাজারকে বের করতে না পারলে আগামী নির্বাচনেও তা বড় প্রভাব ফেলবে বলে উল্লেখ করেন তারা।