নতুন বছর। প্রথম দিনেই নতুন বই। রঙিন নতুন বই পেয়ে আনন্দে উত্ফুল্ল শিক্ষার্থীরা। সারাদেশের আনাচে-কানাচে একই চিত্র। গতকাল দেশের সকল প্রাথমিক, এবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি বিদ্যালয়ে পালিত হয় ‘পাঠ্যপুস্তক উত্সব’। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা গতকাল খালি হাতে স্কুলে এসে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই নিয়ে মহানন্দে বাড়ি ফিরেছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ চত্বরে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে নতুন বই বিতরণ করে ‘পাঠ্যপুস্তক উত্সব’ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর মোস্তফা কামালউদ্দিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর নোমান উর রশীদ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফাহিমা খাতুন ও ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ। অনুষ্ঠানে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, মোহাম্মদপুর মডেল কলেজ, শেরে বাংলানগর গার্লস স্কুল ও গণভবন গালর্স স্কুলের শিক্ষার্থীরা বই গ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীরা ব্যান্ড বাজিয়ে নেচে-গেয়ে, আনন্দ-উল্লাস করে, প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন নেড়ে এক উত্সবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। মন্ত্রীর হাত থেকে নতুন বই পেয়ে তারা ছিল আনন্দে উদ্বেলিত। হাজার হাজার শিক্ষার্থী নতুন বই উঁচু করে নাড়াতে নাড়াতে থাকে। সৃষ্টি হয় এক অপরূপ দৃশ্য। কেউ নতুন বইয়ের গন্ধ নিচ্ছে, কেউ প্রথম সুযোগেই খুলে দেখছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বছরের প্রথম দিনে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে নতুন কারিকুলামের নতুন বই দেয়া সত্যিই চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল। আমরা তা সফলভাবে করতে পেরেছি। ১৭ বছরের পুরনো কারিকুলাম পরিবর্তন করে যুগোপযোগী ১১১টি বিষয়ের নতুন বই পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আমরা প্রাথমিকের বইয়ের বোঝা কমাতে ৫৪৮ পৃষ্ঠা কমিয়েছি। তবে যুগের চাহিদা মেটাতে জলবায়ুর পরিবর্তন, তথ্য অধিকার, অটিজমসহ কিছু নতুন বিষয়ও যুক্ত করেছি। মাধ্যমিক স্তরে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’, ‘কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা’ এবং ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি’ তিনটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে।’
এসব বইয়ে কিছ ভুলত্রুটি থাকতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করে মন্ত্রী তা আগামীবারে সংশোধন করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বই দেয়া কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া কমিয়ে আনার পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফসারুল আমীন গতকাল সকালে গুলশানের কালাচাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর সকালে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন।
২০১৩ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক, এবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি বিদ্যালয়ের তিন কোটি ৬৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৭২ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে মোট ২৬ কোটি ১৮ লক্ষ ০৯ হাজার ১০৬ কপি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।
গতকাল থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল পাঠ্যবই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ওয়েবসাইটে ই-বুক মাধ্যমে দেয়া আছে। এখান থেকে যে কেউ বই ডাউনলোড করতে পারবেন।
