মাদকের বড় বাজার ঢাকা!

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৪৭
পাহাড়ী জনপদের মানুষ ইয়াবা বা ফেনসিডিল তেমন একটা সেবন করে না। স্থানীয়ভাবে তৈরি মদই তাদের কাছে প্রিয়। সীমান্ত এলাকায় ফেনসিডিলের ছড়াছড়ি। সেখানে সেবনকারীরা ফাও খেতেই বেশি অভ্যস্ত। একইভাবে টেকনাফে ইয়াবা মেলে মুড়ি মুরড়ির মত। সেখানেও এই অবস্থা। আর হেরোইন সেবীদের নিয়ে রয়েছে নানা মত। তবে মাদক দ্রব্যের উত্স মুখ যে এলাকাই হোক না তার গন্তব্যস্থল থাকে ঢাকা। আর এ কারণেই মাদক ব্যবসার প্রধান বাজারে পরিণত হয়েছে ঢাকা। দেশের সব এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরাই অধিক লাভের জন্যই বানের সে াতের মত ছোটে রাজধানী ঢাকায়। এ তথ্য দিয়েছেন মাদক প্রতিরোধে কাজ করেন এমন একজন এনজিও কর্মী। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১২ সালে সারাদেশে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ১০৬ বোতল ফেনসিডিল, ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৯ পিস, হেরোইন ১১৫ কেজি। আর মাদক সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৪০ হাজার ৫০০। গ্রেফতার ৫৫ হাজার ২০৪। এর মধ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মামলা ৯ হাজার ২০২টি, আর গ্রেফতার সংখ্যা ১০ হাজার ১৮৩ জন। আর মাদক উদ্ধার ও মাদক মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে শীর্ষে রাজধানী ঢাকায়। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন) মো. ওমর ফারুকী স্বীকার করেছেন মাদকের বড় বাজার ঢাকা। তিনি বলেন, ফেনসিডিল আসে যশোর, রাজশাহী, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন সীমান্ত থেকে। এসব এলাকা থেকে বিভিন্ন কৌশলে মাদক ব্যবসায়ীরা ঢাকায় নিয়ে আসে। গত বছর বেশি সংখ্যক ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে রাজশাহী ও গাজীপুর থেকে। আর ইয়াবা আসছে টেকনাফ থেকে। হেরোইন যা উদ্ধার হয়েছে সবই ঢাকায়। বিশেষ করে বিমানবন্দর থেকে। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পাশাপাশি র্যাব, পুলিশ, বিজিবি মাদক অভিযান করে। তাদের তত্পরতার কারণে ২০১১ সালের তুলনায় ২০১২ সালে ফেনসিডিলের আমদানী কিছুটা কমেছে। তবে বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে ইয়াবার ক্ষেত্রে। ইয়াবা আসে মিয়ানমার থেকে। টেকনাফই এর প্রধান রুট। এ প্রেক্ষাপটে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর টেকনাফে অফিস খুলেছে। সেখানে মাঠপর্যায়ের ৫ জন সদস্য দায়িত্বপালন করছেন। ইয়াবার বড় ধরনের চালান যা ধরা পড়েছে তার সিংহভাগই চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে। ওমর ফারুকী আরও বলেন, ইয়াবা, ফেনসিডিল বা হেরোইনের পাশাপাশি অন্যান্য মাদক দ্রব্যের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ঢাকাতেই সর্বাধিক কেনাবেচা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান। যিনি গত বছর রাজধানী থেকে ৫০ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেন। গ্রেফতার করেন প্রায় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে। এডিসি তার নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, সব মাদক ব্যবসায়ীরই বড় টার্গেট ঢাকা। কারণ ঢাকা থেকেই পরে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হয়ে থাকে। গ্রেফতারকৃতরা এ তথ্যই দিয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় এক বোতল ফেনসিডিল বিক্রি হয় ৩ থেকে সাড়ে তিন শত টাকা। কিন্তু ঢাকায় তা বিক্রি হয় ৫ থেকে ৬ শত টাকা করে। র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান বলেন, র্যাব সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে মাদক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। গত বছর র্যাব রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল ও ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে। নতুন বছরে এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। গত বছর উদ্ধার করা হয় ৩৩ কেজি হেরোইন, ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৩৭ বোতল ফেনসিডিল, ৬ লাখ ৬২ হাজার ৯৪৪ পিস ইয়াবা, ১১ হাজার ৭’শ কেজি গাজা ও ৫৮ হাজার বোতল বাংলা মদ। এর বড় অংশই উদ্ধার হয় রাজধানী ও তার আশপাশ এলাকা থেকে।