প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, দেশের কোথাও এতটুকু জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের আলামত দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিন, যাতে আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি। ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তুলতে হবে। আর যেন কোনো সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ না থাকে, বাংলাদেশকে উন্নত ও শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ, শ্রীলঙ্কার গীর্জা ও হোটেলে সন্ত্রাসী হামলা, ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ এবং এ সকল সন্ত্রাসী যৌন নিপীড়নের ঘটনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল সংসদ, সরকার ও নাগরিকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আনীত সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এর বিরুদ্ধে দেশের সকল মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। নুসরাত হত্যাকাণ্ডসহ যৌন নিপীড়নের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হবে। তাদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেই ব্যবস্থাই আমরা করবো।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রী শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ দেশ নিউজিল্যান্ডেও নামাজ পড়া অবস্থায় ৫৩ জন মুসল্লিকে হত্যা করে একজন খুনি ক্যামেরা মাথায় নিয়ে। সে একজন উগ্রবাদী খ্রিষ্টান ছিল। জাতীয় ক্রিকেট টিমের সদস্যরা অল্পের জন্য বেঁচে যান। ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ যৌন নির্যাতন করে। মামলা প্রত্যাহারের প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হয়, সাহসী মেয়ে নুসরাত তাতে রাজী হয়নি। এ কারণে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর সেই মেয়েটাকে চরিত্রহীন বানানোর চেষ্টা করা হয়। অধ্যক্ষের সঙ্গে আমাদের দলের কয়েকজন জড়িত ছিল। সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ দেই, গ্রেফতার করা হয়। কারণ অপরাধী অপরাধীই। সে যে দলেরই হোক। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপী সমস্যা। শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিষ্পাপ শিশু জায়ান চৌধুরী নিহত হয়। ৪২ জন বিদেশি মারা যায় ওই ভয়াবহ হামলায়। এ ধরনের জঘন্য ঘটনার আমরা নিন্দা জানাই। হলি আর্টিজানে হামলার পর আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। গোয়েন্দা সংস্থা সঠিক সময়ে সংবাদ দিতে পারছে বলেই অনেক জীবন রক্ষা পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমিও ২১ আগস্ট ভয়াল হামলার শিকার হয়েছিলাম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাওয়ার অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল। যে দেশে খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়, সে দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বৃদ্ধি পাবে এটাই স্বাভাবিক। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের নির্বাচন করে খালেদা জিয়া খুনি রশিদকে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিলেন। জিয়া-এরশাদও খুনিদের পুরস্কৃত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের
বিদায়ী সাক্ষাত্
বাসস জানায়, বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন এইচ এম আল-মুতাইরি গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর জাতীয় সংসদ ভবনের কার্যালয়ে বিদায়ী সাক্ষাত্ করেছেন। সাক্ষাত্ শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে সৌদি আরবের বাদশাহ ও খাদেমুল হারমাইন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদকে তাঁর শুভেচ্ছা জানান। সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
