সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার স্থল ইউনিয়নে হাইস্কুল না থাকায় ১৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে স্কুলে যায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী। যার ফলে এই ইউনিয়নের অধিকাংশ ছেলে-মেয়ের লেখার পরিধি প্রাথমিক শিক্ষার মধ্যেই আটকে যাচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের ৯ উপজেলার ৫টির অবস্থান যমুনার চরাঞ্চলে। এর মধ্যে চৌহালী মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। ১৮৬৪ সালে স্থল পাকড়াশী জমিদারদের প্রচেষ্টায় স্থল পাকড়াশী ইন্সটিটিউশন নামে একটি বিদ্যাপীঠ স্থাপিত হয়েছিল। নদীভাঙ্গনের কারণে প্রায় ৫০ বছর আগে এই প্রতিষ্ঠানটিকে পার্শ্ববর্তী শাহজাদপুর উপজেলার রূপসীতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সন্তোষা চরে একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেটিও ১০-১২ বছর পূর্বে একই কারণে শাহজাদপুরের ব্রাহ্মণগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। এখানকার মালিপাড়া, নওহাটা, তেঘুরী, হাটবয়রা, নয়াপাড়া, গোসাইবাড়ি, গোয়ালবাড়ি, চালুহারাসহ ১৬টি গ্রামের আড়াই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী ৯ কিলোমিটার দূরের এনায়েতপুরের হাইস্কুলগুলোতে ক্লাস করতে যায়। তারা ৩/৪ কিলোমিটার বালুপথ পাড়ি দিয়ে গোয়ালবাড়ি নৌকাঘাটে যায়। তারপর ১০ টাকা দিয়ে নৌকায় বিপদসংকুল যমুনা পাড়ি দেয়। এখানেই শেষ নয়। এরপর আরো ১ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পৌঁছায় এনায়েতপুর মেহের-উন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এনায়েতপুর ইসলামীয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বেতিল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে। এই স্কুলে অধ্যয়নরত চালুহারা চরের দশম শ্রেণির শান্ত, গোশাইবাড়ির নুর আলম, লাঙ্গলমুড়ার ৮ম শ্রেণির ছাত্রী খাদিজা আক্তার চম্পা, ৯ম শ্রেণির শাহিদা খাতুন, দশম শ্রেণির মাসুদা খাতুন জানায়, কষ্ট হলেও তারা সুশিক্ষিত হতে চায়। তারা স্থল ইউনিয়নে একটি বিদ্যালয় স্থাপনের জোর দাবি জানায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাতেম আলী মাস্টার ও ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম জানান, এখানে বিদ্যালয় না থাকায় এই ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষের প্রধান সমস্যা। এখানে অন্তত একটি বিদ্যালয় না থাকা খুবই জরুরী।
চৌহালীর বিশিষ্ট সমাজপতি মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শিক্ষার প্রসার ঘটাতে চরাঞ্চলে একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা খুবই প্রয়োজন।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোপাল চন্দ্র সরকার জানালেন, স্থল ইউনিয়ন জুড়ে যে একটি উচ্চ বিদ্যালয় নেই তা আমার জানা নেই। তবে যেসব চর এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই সেখানে কেউ উদ্যোগী হলে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
