দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক নাকি দলীয় সরকারের অধীনে হবে তা নিয়ে রাজপথে চলছে লড়াই। লড়াইয়ের রাজনৈতিক উত্তাপ পৌঁছে গেছে হবিগঞ্জের গ্রামগঞ্জে। প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দলসহ প্রায় সব দলই ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এলাকায় তত্পর হয়ে উঠেছে। তাদের কেউ তৈরি করিয়েছেন বড় তোরণ। কেউ ঝুলিয়েছেন ব্যানার। কেউ করেছেন পোস্টারিং। নেতা-কর্মীরাও বসে নেই। তারা নিজ নিজ নেতাদের পক্ষে মিছিল করা শুরু করে দিয়েছেন। রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও কমিটি নিয়ে ঘষামাজা শুরু করেছে। হবিগঞ্জে জাতীয় সংসদের ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিতে আওয়ামী লীগ ও ১টিতে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) শেখ সুজাত মিয়া (বিএনপি), হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) এডভোকেট আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ খান (আওয়ামী লীগ), হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই) এডভোকেট আলহাজ্ব মো. আবু জাহির (আওয়ামী লীগ), হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) এনামুল হক মোস্তফা শহীদ (আওয়ামী লীগ)। এছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যা হচ্ছেন বিএনপি দলীয় শাম্মী আক্তার শিপা।
গত ৬ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়ার হবিগঞ্জ সফরের পর নেতা-কর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। অপরদিকে গত ৮ ডিসেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মতবিনিময়ের পর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে কাজ শুরু করেছেন। জাতীয় পার্টিও পিছিয়ে নেই। জাপার দুইজন শক্তিশালী নেতা হবিগঞ্জ-২ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএমএ সভাপতি ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেওয়ান ফরিদ গাজীর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া বিজয়ী হন। এখানে জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসী নেতা মো. আব্দুল মুনিম বাবু ও আব্দুল হামিদ চৌধুরী।
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে জাপা’র সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন শিল্পপতি শংকর পাল। এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, উপজেলা বিএনপি সভাপতি এডভোকেট মঞ্জুর উদ্দিন আহমেদ শাহীন।
হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ সদর-লাখাই) এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা বেশি তত্পর। এখানে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যও নিয়মিত জনসংযোগ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই তিন ইউনিয়নের গ্রামবাসী তার পক্ষে জেলা সদরে মিছিল করেছেন। এ আসনে জাপা’র সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমানে বিএনপির প্রবীণ নেতা আবু লেইছ মো. মুবিন চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন চাইবেন কিনা তা যদিও পরিষ্কার নয়, তবে এখানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হবিগঞ্জ ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব জিকে গউছ প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করে কাজ শুরু করেছেন। জেলা জাপা’র সভাপতি আলহাজ্ব মো. আতিকুর রহমান আতিক ইতিমধ্যেই হবিগঞ্জ-লাখাই উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেয়ার মাধ্যমে তার প্রার্থিতা পরিষ্কার করেছেন। এই আসনে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমদুল হক যে কোন বড় দলের মনোনয়ন নিয়ে চমক দেখাতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।
হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন জেলা বিএনপি সভাপতি শিল্পপতি আলহাজ্ব সৈয়দ মো. ফয়সল। এখানে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ। তবে এক্ষেত্রে তরুণদের মধ্যেও কেউ কেউ মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। জাপা’র মনোনয়ন চাইতে পারেন ইংল্যান্ড প্রবাসী কাওসারুল গনি।
