বাগেরহাটে গৃহবধূকে দোররা মারায় চেয়ারম্যান বরখাস্ত

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৫
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মঞ্জুরুল করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিলুফা ইয়াসমিন নামে এক নারীকে গ্রাম্য সালিশে দোররা মেরে গুরুতর আহত করা এবং চার দিন আটকে রেখে চিকিত্সা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে মঙ্গলবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঙ্গলবার এই প্রতিবেদককে জানান, তার অবর্তমানে ঐ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে পরিষদ পরিচালনার জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে। নিলুফা ঐ ইউনিয়নের চর সোনাকুড় গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী এবং এক সন্তানের জননী। চেয়ারম্যান এস এম মাঞ্জুরুল করিম কচুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। দোররা মারার এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গত বছরের ১৪ অক্টোবর গ্রাম্য সালিশে চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল করিমের নেতৃত্বে সালিশ সভা করে চর সোনাকুড় গ্রামের নিলুফা ইয়াসমিনকে (৩৫) প্রকাশ্যে দোররা মেরে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে তাকে তার বাড়িতে চার দিন আটক রেখে চিকিত্সা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এক পর্যায়ে ঐ গৃহবধূ গোপনে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলায় আত্মীয়দের কাছে আশ্রয় নেন এবং চিকিত্সা গ্রহণ করেন। পরে ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি উচ্চ আদালতের গোচরে এলে আদালত কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই ঘটনায় গৃহিত ব্যবস্থা সম্পর্কে আদালতকে জানাতে আদেশ দেন। পরে নির্যাতিতা ঐ নারী চেয়ারম্যানসহ ছয় জনকে আসামি করে কচুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ ঐ চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। বর্তমানে মামলার আসামিরা জামিনে রয়েছে। উপ-সচিব কামরুন্নাহার স্বাক্ষরিত স্থানীয় সরকার বিভাগের ঐ চিঠিতে বলা হয়, চেয়ারম্যান এস এম মঞ্জুরুল করিমের বিরুদ্ধে নিলুফা ইয়াসমিনকে অমানবিকভাবে মারপিট করে মারাত্মক ও জঘন্যতম অপরাধের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ অবস্থায় ঐ চেয়ারম্যানকে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও জনস্বার্থে সমীচীন নয়। তাই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্ত আদেশ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এস এম মঞ্জুরুল করিম মঙ্গলবার রাতে এই প্রতিবেদককে বলেন, এ ধরনের কোন আদেশ আমার কাছে এখনও আসেনি। আদেশ হাতে পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেবো।