কুমিল্লায় এক বছরে ১২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১৮৩ জন

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৫
২০১২ সালে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে ১২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৮৩ জন। আহত হয়েছে ৪৪২ জন। এদের মধ্যে অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরনির্ভর হয়ে অসহায় দিন কাটাচ্ছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে শিশু, নারী-পুরুষ। হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের দেয়া তথ্যমতে ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কুমিল্লা জেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৯৭ কিলোমিটার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ৮৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৯৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে ছেলে শিশুসহ ৮৩ জন পুরুষ ও মেয়ে শিশুসহ ১৬ জন মহিলা রয়েছে। আহত হয়েছে ৭৩ জন। আহতদের মধ্যে শিশুসহ ৭১ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। কিন্তু পুলিশের এ তথ্য বাস্তবতার থেকে অনেক পিছিয়ে। ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সংবাদপত্রের পাতায় কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশের ওই তথ্যের সাথে কোন মিল পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিত্তে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পৃথক ৭টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে ৮টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়। মার্চ মাসে ১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত ও ১৮ জন আহত হয়। এপ্রিল মাসে ১০টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়। মে মাসে ৬টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়। জুন মাসে ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৬৮ জন আহত হয়। জুলাই মাসে ৮টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৪৪ জন আহত হয়। আগস্ট মাসে ১৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ১২টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়। অক্টোবর মাসে ১০টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ৫২ জন আহত হয়। নভেম্বর মাসে ১৫টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়। ডিসেম্বর মাসে ৭টি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছে। ১৮৩ জন নিহতের মধ্যে শিশুসহ ১৬১ জন পুরুষ ও শিশুসহ ২২ জন মহিলা রয়েছে। ৪৪২ জন আহতের মধ্যে শিশুসহ ৪১৫ জন পুরুষ ও শিশুসহ ২৭ জন মহিলা রয়েছে। আগস্ট মাসে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই মাসে পৃথক ১৭টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ২৬ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়। অপরদিকে ডিসেম্বর মাসে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটে। ডিসেম্বরের পুরো মাসে ৭টি দুর্ঘটায় ৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়। শুধুমাত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলাধীন মাত্র ২৫ কিলোমিটার এলাকাসহ চান্দিনার বিভিন্ন স্থানে ৪১টি দুর্ঘটনা ঘটনায় ৫৭ জন নিহত ও ১৫৪ জন আহত হয়। এব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশফিকুজ্জামান আকতার জানান, আমরা প্রতিদিনের রিপোর্ট ও মামলার ভিত্তিত্বে সেগুলো মাসিক ও বাত্সরিক তালিকা করি। অনেক সময় দেখা যায় বিচ্ছিন্ন অনেক ঘটনা পুলিশের নজরে না আসলে সেগুলো তালিকায় আনা সম্ভব হয় না এবং জেলা পুলিশ যেগুলো দেখভাল করে সেগুলোও আমাদের তালিকায় আসে না।