আর্থিক সংকটে চট্টগ্রাম ওয়াসা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৫
লোকসানের মুখে পড়েছে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ওয়াসা। অভ্যন্তরীণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত ছয় মাস ধরে লোকসান দিতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। তার উপর বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে সরকারি ও দাতাসংস্থার অর্থের কয়েকশ কোটি টাকার বোঝা ঝুলছে ওয়াসার কাঁধে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুতের পাশাপাশি মেরামত, কেমিক্যাল ও ওভারটাইমসহ প্রতিটি খাতে বছরে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির মূল্য না বাড়ালে সরকারকে অবশ্যই ভর্তুকি দিতে হবে। অন্যথায় অচিরেই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানটি চরম আর্থিক সংকটে পড়বে। ওয়াসা সূত্র জানায়, বিদ্যুতের দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধির কারণে বছরে ১০ কোটি টাকা বিদ্যুত্ বিল বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়াসার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগে বিদ্যুত্ বিল আসতো বছরে ১৭ কোটি টাকা। বর্তমানে বিদ্যুত্ বিল বেড়ে বছরে ২৭ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মোহরা পানি শোধনাগার ও বুস্টারে পানি পরিশোধন করতে বছরে ৩ কোটি টাকা কেমিক্যাল বাবদ খরচ হচ্ছে। আর ৯০টি গভীর নলকূপে কেমিক্যালের জন্য প্রয়োজন বছরে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পানির পাইপ লাইন মেরামতে কেমিক্যাল বাবদ খরচ হচ্ছে বছরে ৬০ লাখ টাকা। ডিজেল বাবদ খরচ ৫০ লাখ টাকা। ওয়াসায় ২০টি পাম্প হাউজে জেনারেটর ও যানবাহন খাতে এসব ডিজেল ব্যবহার হচ্ছে। ওয়াসায় যানবাহন খাতে মেরামত বাবদ বছরে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানায়, জনবল সংকটে অস্বাভাবিকভাবে ওভারটাইম বাবদ খরচ বেড়েছে। ওয়াসায় ৯০টি গভীর নলকূপে ৩ জন করে হলেও মোট ২৭০ জন্য পাম্প অপারেটরের প্রয়োজন। অথচ এই পদে চাহিদার অর্ধেকের চেয়ে কম জনবল রয়েছে। পাম্প অপারেটর পদে লোক নিয়োগ নিয়ে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় নতুন লোক নিয়োগ করা যাচ্ছে না। ফলে পাম্প হাউজগুলো ওভারটাইম দিয়ে চালাতে হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং-এর কারণে পাম্প হাউজগুলোতে জেনারেটরের ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। নলকূপগুলো চালু এবং অন্যান্য খাতে বছরে ৫০ লাখ টাকা ওভারটাইম বাবদ বাড়তি খরচ হচ্ছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, সরকার বিদ্যুত্, গ্যাস ও তেলের দাম কয়েক দফায় বাড়ালেও পানির মূল্য বৃদ্ধির অনুমোদন দিচ্ছে না। ওয়াসার একমাত্র আয়ের উত্স হল পানির বিল বাবদ আয়। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ক্ষমতাবলে বছরে একবার পানির মূল্য বাড়াতে পারে। সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের বেশি বাড়াতে পারে না। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, ‘যে পরিমাণ ব্যয় বেড়েছে পানির মূল্য না বাড়ালে ওয়াসাকে পরিচালনা দুরূহ হয়ে পড়বে। আয়-ব্যয়ে ঘাটতি কমাতে হলে কমপক্ষে ১০ শতাংশ পানির দাম বাড়াতে হবে। অন্যথায় সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। পানির উত্পাদন খরচ বেড়ে গেছে। ওয়াসার অর্থনৈতিক সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধি নিরসনে পানির মূল্য বৃদ্ধির জন্য শীঘ্রই মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হবে।’ সূত্র জানায়, এক হাজার লিটার পানির উত্পাদন খরচ পড়ে ১২ টাকা ৩৩ পয়সা। আর বিক্রয় মূল্য পড়ে ৬ টাকা ৫৭ পয়সা। ওয়াসার রাজস্ব বিভাগ জানায়, ওয়াসায় বর্তমানে ৫৪ হাজার পানির সংযোগ রয়েছে। এতে মাসে প্রায় ৪ কোটি টাকা পানির বিল হয়। বিলগুলো শতভাগ আদায় হয় না। হিসাব বিভাগ জানায়, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পখাতে সরকারি ও দাতা সংস্থার কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। সরকারি অর্থের ৪ শতাংশ ও বিদেশি অর্থের ৫ শতাংশ হারে সুদ ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হয়। এ প্রসঙ্গে ওয়াসার প্রধান হিসাব রক্ষক জাকির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৪ মাসে ওয়াসার নিজস্ব আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। আর এ ৪ মাসে বেতন ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা।