রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অননুমোদিত সকল আবাসন প্রকল্প এবং আশিয়ান সিটির উত্তরা (দক্ষিণখান) প্রকল্পের মাটি ভরাট, বিজ্ঞাপন প্রচার ও প্লট বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সকল অননুমোদিত প্রকল্প মাটি ভরাট কার্যক্রম, বিজ্ঞাপন প্রদান, প্লট বিক্রি বন্ধের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করা হয়েছে। এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার এবং বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন।
অননুমোদিত প্রকল্পের বিজ্ঞাপন প্রচার ও প্লট বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেন আট বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাষ্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) , ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশ (আইএবি), নিজেরা করি, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। গতকাল হাইকোর্টে এ আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক দেয়া আসিয়ান সিটির অবস্থানগত ছাড়পত্র, এর নবায়ন, আসিয়ান সিটির উত্তরা আবাসিক প্রকল্পকে দেয়া রাজউকের অনুমোদন স্থগিত করেছে। এছাড়া পরিবেশ লংঘনের অভিযোগে আসিয়ান সিটিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের করা ৫০ লাখ টাকার জরিমানা পাঁচ লাখ টাকায় নির্ধারণ সংক্রান্ত পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আদেশও স্থগিত করেছে। কোন বিলম্ব ছাড়াই আসিয়ান সিটির অনুমোদন সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র এবং এ পর্যন্ত কতগুলো প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার একটি তালিকাও আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বেসরকারি আবাসন প্রকল্প ভূমি উন্নয়ন নীতিমালা-২০০৪ সংশোধনের পর কতগুলো আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, তার একটি তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করতে রাজউক চেয়ারম্যানকে আদেশ দেয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে ওই প্রকল্পকে দেয়া অবস্থানগত ছাড়পত্র, এর নবায়ন, জরিমানা হ্রাস এবং রাজউক কর্তৃক অনুমোদন দান কেন অবৈধ ঘোষণা এবং আসিয়ান সিটি কর্তৃক মাটি ভরাটকৃত এলাকাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। গৃহায়ন সচিব, ভূমি সচিব, পরিবেশ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান, ঢাকার জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ন ও বাস্তবায়ন) এবং আসিয়ান সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে এডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন ও এডভোকেট ইকবাল কবির লিটন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এডভোকেট আল আমিন সরকার।
