বিষ খাইয়ে দুই তরুণী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে নেমেছে পুলিশ

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৭
রাজধানীর স্বামীবাগে দুই তরুণীকে পানীয়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যার ঘটনা তদন্তে নেমেছে পুলিশ। গত ১৫ ডিসেম্বর রাতে বিজয় দিবস উপলক্ষে মিতালি স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই দুই তরুণীর পানীয়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেয়া হয়। পরে তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বুধবার দৈনিক ইত্তেফাকে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর মহানগর পুলিশের টনক নড়েছে। ওয়ারী থানার ইন্সপেক্টরের (তদন্ত) নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাটি তদন্ত করছে। অপরদিকে গোয়েন্দা পুলিশও এ ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ওয়ারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ইত্তেফাকের সংবাদের প্রেক্ষিতে এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, যে কোন অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটলে ময়না তদন্ত করতে হয়। আবার পুলিশের মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে ময়না তদন্ত ছাড়া দাফন কিংবা সত্কার করা যায়। অপমৃত্যুর ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া লাশ দাফন কিংবা সত্কার করা বেআইনি। দুই তরুণীকে পানীয়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ময়না তদন্ত প্রয়োজন। দুই তরুণীকে হত্যার ঘটনায় রাজধানীর স্বামীবাগ, দয়াগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রলীগ মহানগর (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান রানা বলেন, দুই তরুণীকে হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের সূত্রাপুর থানার সভাপতি আবু হানিফ সেতু ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ রেজা রিজভিসহ আরো কেউ জড়িত কিনা বিষয়টি তদন্ত করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ১৫ ডিসেম্বর রাতে স্বামীবাগ মিতালি স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গভীর রাতে এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী স্কুলের কাছে একটি বাসায় বিশেষ অনুষ্ঠান করে। সেখানে মদপানের আয়োজন ছিল। ছাত্রলীগ নেতা সেতু ও রিজভিসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় তরুণীদের মদে বিষ মিশিয়ে দেয়া হয়। পরদিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে রেশমা (২৫) মারা যায়। এর একদিন পর তার মামাতো বোন তুষি (১৯) মারা যায়। গুরুতর অসুস্থ রুমা সুস্থ হয়ে উঠে। তবে সে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। নিরাপত্তার কারণে রুমা আত্মগোপনে রয়েছে। বিষয়টি এলাকাবাসী প্রায় সকলে জানেন। পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি এড়িয়ে যায়। দুই তরুণীকে গোপনে দাফন করা হয়।