কচুয়া উপজেলার মঘিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মঞ্জুরুল করিমকে গ্রাম্য সালিশে এক নারীকে দোররা মারার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রামে সালিশ ডেকে দোররা মেরে ঐ নারীকে গুরুতর জখম করে। এমনকি টানা ৪ দিন ঐ নারীকে আটক রেখে তার চিকিত্সা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে বলে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে মঙ্গলবার তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঙ্গলবার ইত্তেফাককে জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব কামরুন্নাহার স্বাক্ষরিত এক আদেশের প্রেক্ষিতে মঘিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তার অবর্তমানে ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে পরিষদ পরিচালনার জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে।
উপ-সচিব কামরুন্নাহার স্বাক্ষরিত স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, চেয়ারম্যান এস এম মঞ্জুরুল করিমের বিরুদ্ধে ঐ গৃহবধূকে অমানবিকভাবে মারপিট করে মারাত্মক ও জঘন্যতম অপরাধের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ অবস্থায় ঐ চেয়ারম্যানকে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও জনস্বার্থে সমীচীন নয়। তাই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (খ) ও (ঘ) উপধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল কচুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। দোররা মারার এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর তাকে দল থেকেও সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত ১৪ অক্টোবর গ্রাম্য সালিশে চেয়ারম্যান মঞ্জুরুলের নেতৃত্বে সালিশ সভা করে চর সোনাকুড় গ্রামের ঐ নারীকে প্রকাশ্যে দোররা মেরে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে তাকে তার বাড়িতে চার দিন আটক রেখে চিকিত্সা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এক পর্যায়ে ঐ গৃহবধূ গোপনে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলায় আত্মীয়দের কাছে আশ্রয় নিয়ে চিকিত্সা গ্রহণ করেন।
ঘটনাটি গণমাধ্যমের কল্যাণে উচ্চ আদালতের গোচরে আসলে আদালত কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই ঘটনায় গৃহিত ব্যবস্থা সম্পর্কে আদালতকে জানাতে আদেশ দেন।
পরে নির্যাতিতা ঐ নারী চেয়ারম্যানসহ ৬ জনকে আসামি করে কচুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জি জি বিশ্বাস জানান, দোররা মারার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত চলছে। মামলার প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যানসহ বাকিরা উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে রয়েছেন।
এ সম্পর্কে চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল করিমের কাছে জানতে চাওয়া হলে মঙ্গলবার রাতে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ ধরনের কোন আদেশ আমার কাছে এখনও আসেনি। আদেশ হাতে পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেবো’।
