দেখা হয় নাই

কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:১৬
একদিকে পাহাড়ের মাঝে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি আর অন্যদিকে সবুজের হাতছানি যাদের মুগ্ধ করে তাদেরই জন্য ঘুরে বেড়ানোর চমত্কার একটি স্থান হতে পারে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক। এ অঞ্চলে কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য্যের কথা সর্বজনবিদিত হলেও মূলত ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে ন্যাশনাল পার্ক হিসেবে যাত্রা শুরু করে এই কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ বন বিভাগের পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের অধীন একটি বনাঞ্চল। কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশ করতেই পাখির কিচির-মিচির এবং বন্য বানরসহ নানা নানা প্রজাতীর বন্যপ্রাণীর আনাগোনা চোখে পড়বে পর্যটকদের। কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা বালুছড়া নামক এলাকা থেকে কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কের শুরু এবং কাপ্তাই লেক ও কর্ণফুলী নদী পাশ ঘেঁষে একটি বিস্তির্ণ অঞ্চল জুড়ে এই বনের সীমানা। কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কে বণ্যপ্রাণীর উপস্থিতি খুব বেশি না হলেও অনেকের মতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পাখির অভয়ারণ্য এই পার্কটি। এখানে সবমিলিয়ে প্রায় ২২৯ প্রজাতির পাখি আছে বলে ধারণা করা হয় যার মধ্যে রয়েছে বিরল প্রজাতির শ্যামা, বনমোরগ, মালকোহা, ময়না, ভীমরাজ, বাবলার, সানবার্ড ও ধনেশ পাখি। কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কে যে কেউ যে কোনো সময়ে ঘুড়ে বেড়ানোর জন্য আসতে পারেন। তবে গভীর বণে প্রবেশ, থাকা, খাওয়া এবং সংরক্ষিত বনের অভ্যন্তরে যাতায়তের জন্য বন বিভাগের অনুমতি নিতে হয় যা খুব সহজেই সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা যায়। এ ছাড়া কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্কের ভিতরে আছে সু-উচ্চ পাহাড়ের উপর বন বিভাগের বনফুল নামক একটি অপূর্ব সুন্দর বিশ্রামাগার। পূর্বানুমতি নিয়ে এই বিশ্রামাগারে থাকা ও ছুটি কাটানো যেতে পারে। এই রেস্ট হাউজের বারান্দা থেকে খুব সহজেই উপভোগ করা যায় ন্যাশনাল পার্কের সবুজ প্রকৃতি আর শান্ত শীতল জলে বয়ে চলা কর্ণফুলী নদীর সৌন্দর্য। এ ছাড়া এই পার্ক ও পার্কের আশপাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট আর বেসরকারি রেস্ট হাউসও। কাপ্তাই উপজেলার রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার একটি উপজেলা হলেও চট্টগ্রাম শহরের সাথে কাপ্তাইয়ের যোগাযোগ অত্যন্ত সহজ এবং মাত্র ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের দূরত্ব। ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে কিংবা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে বাসে সহজেই এখানে আসা যায়।