দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলি। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক দিয়ে হিলি স্থলবন্দর দেশের সুবিধাজনক স্থানে হওয়ায় আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা এ বন্দর দিয়ে ব্যবসা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর এ কারণে এবার চলতি অর্থ বছরের ৬ মাসেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক বেঁধে দেয়া রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ রাজস্ব আয় করে হিলি স্থলবন্দর।
এবারে চলতি অর্থ বছরে এ বন্দরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৫ কোটি টাকা। এ অর্থ বছরের ৬ মাসেই এ বন্দর রাজস্ব আয় করেছে ৮৫ কোটি টাকা। হিলি স্থলবন্দরের কাঁচা মাল আমদানিকারক গ্রুপের আহবায়ক হারুনুর রশিদ হারুন জানান, বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র বন্দর হিলি স্থলবন্দর যেটি শহরের মধ্যে অবস্থিত। আমদানিকারকরা এখানে থাকা-খাওয়াসহ ব্যাংকে নির্দিধায় লেনদেন করতে পারে। আবার ব্যবসায়ীরা নগদ টাকা সাথে নিয়ে দেখে শুনে বন্দর থেকে পণ্য কিনতে পারে। এ বন্দরের গুরুত্ব ভেবে ভারত সরকার হিলি স্থলবন্দর থেকে সে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সাথে যোগাযোগের জন্য রাস্তা চার লেনে প্রশস্ত করেন এবং এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা আরো তরান্বিত করার লক্ষ্যে হিলি স্থলবন্দর থেকে সে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সাথে যোগাযোগের জন্য রেলপথ সংযোজনের কাজ শুরু হয়েছে। আবার এ বন্দর দিয়ে আগের তুলনায় বর্তমানে আমদানির সাথে রপ্তানির পরিমাণও বেড়ে গেছে।
সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন বলেন, হিলি স্থলবন্দর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ ভালো হওয়ায় এবং হিলি থেকে পণ্য বোঝাই একটি ট্রাক ঢাকায় পৌঁছতে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা সময় লাগে এতে করে আমদানিকারকদের আমদানি করা ফলমূলসহ কাঁচা পণ্য নষ্ট বা পচে না এবং সাথে সাথে দেশের বাজার ধরতে পারার কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তও না হয়ে লাভবান হয়। সে কারণে আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা এ বন্দরকে বেশি পছন্দ করেন। এ কারণে হিলি স্থলবন্দর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ রাজস্ব আয় করেছে।
