রংপুরে অব্যাহত ঘন কুয়াশাপাত ও শৈত্য প্রবাহে কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে বোরো বীজতলা। এর ফলে ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ জমির বীজতলা নষ্টের উপক্রম হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। আক্রান্ত বীজতলা বাঁচাতে কৃষি বিভাগ ৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সতর্ক করছেন।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রংপুর অঞ্চলে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ৬০ হাজার ৩শ’ ৬৬ হেক্টর জমিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বীজতলা হয়েছে ৩৮ হাজার ৭শ’ ৬ হেক্টর। গত ১৫ দিন থেকে এ অঞ্চলে বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে। দিন রাত সব সময় ঘন কুয়াশার আস্তরণে ঢাকা পড়ে প্রকৃতি। নেতিবাচক আবহাওয়ার কারণে বোরো ক্ষেত স্যাঁত স্যাতে হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে।
রংপুর সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল আউয়াল, আলমগীর, জসীম, ইউনুছ আলী, মফিজল, কবীর উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে পুনরায় তাদের বীজতলা তৈরি করতে হবে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলন না হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এ ব্যাপারে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তীব্র কুয়াশা হলেও ফলনে তেমন ক্ষতি হবে না। শৈত্য প্রবাহকালীন সময়ে শুকনো বীজতলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ভেজা বীজতলার ক্ষেত্রে সকাল বেলা ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পানি দিতে হবে ও সন্ধ্যায় পানি বের করে দিতে হবে। অতিরিক্ত ঠান্ডায় বীজতলায় ছাই ছিটিয়ে তাপমাত্রা ধরে রাখা যায়। শৈত্য প্রবাহকালীন সময়ে বীজতলার চারা উত্তোলন না করাই উত্তম। এছাড়া এই সময়ে আলু ও টমেটো ক্ষেত লেটব্লাইটে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত গাছ তুলে মাটি চাপা অথবা পুড়ে ফেলতে হবে। আক্রান্ত হওয়ার আগে প্রতি লিটার পানিতে সিকিউর নামক ছত্রাকনাশক ১ গ্রাম ও মেলোডিডুও ২ গ্রাম একত্রে ৭ থেকে ১০ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে। রংপুর কৃষি বিভাগের উদ্যান বিশেষজ্ঞ মেজবাহুল ইসলাম বলেন, আক্রান্ত বীজতলা রক্ষায় ৩ দফা নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। এগুলো হলো সকাল বেলা দড়ি বা লাঠি দিয়ে শিশির কণা ঝরিয়ে দিতে হবে। বিকেলে জমিতে হালকা পানি দিতে হবে। শৈত্য প্রবাহ ঠেকাতে জমির উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে ঘেরা দিয়ে রাখতে হবে যাতে শৈত্য প্রবাহ ঢুকে বীজতলা নষ্ট করতে না পারে।
