সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব আয় হ্রাস পেয়েছে

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১১
পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকায় ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি স্থলবন্দরটিতে দেখা দিয়েছে বলে স্থলবন্দরের রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা যায়। রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্টরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ভোমরা বন্দরের রাজস্ব অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, চলতি অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২২৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৯ কোটি টাকার মত। এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব অর্জন হয়েছে মাত্র ৫৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। যা গত ৬ মাসের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকা কম। ফলে অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব ঘাটতি রয়ে গেছে। রাজস্ব ঘাটতি কমে যাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. অহিদুল ইসলাম অহিদ বলেন, বন্দরে ঢোকার আগে প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও এই বন্দরের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পার্শ্ববর্তী অন্যসব বন্দরের তুলনায় খুবই কম। বন্দরের অবকাঠামগত উন্নয়ন হলে ব্যবসায়ীরা আরো বেশি করে এ বন্দর ব্যবহার করবে। তখন রাজস্বের পরিমাণও বাড়বে। প্রধানমন্ত্রীর ভোমরা স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বন্দরে রূপান্তরিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বন্দর উন্নয়নের কাজও চলছে। ট্রাক টার্মিনাল, ওয়ারহাউজ ও পার্কিং ব্যবস্থা নির্মাণ কাজ শেষ হলেই দেশের বড় বড় আমদানি-রপ্তানিকারকরা ভোমরা বন্দরের দিকে বেশি ঝুঁকবে। এদিকে সাতক্ষীরা জেলা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আব্দুল মান্নান বন্দরের স্বার্থে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান। ভোমরা স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মবিন-উল ইসলাম খশরু বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধিনিষেধ থাকায় এ বন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি করা যায় না। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা খুবই খারাপ থাকায় এ বন্দরে ১০ চাকার পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকতে পারে না। ফলে ভারত থেকে বিশেষত ফল আমদানি আগের তুলনায় কমে গেছে। একই সাথে পাথর আমদানিও কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া পণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকায় আমদানিকারকগণ এই বন্দর ব্যবহারে নিরুত্সাহিত হচ্ছেন। বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চলছে উল্লেখ করে বিভাগীয় কাস্টমস সহকারী কমিশনার (শুল্ক) মো. আল-আমীন বলেন, প্রথম ৬ মাসে রাজস্ব আয় কমলেও তা পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের এখনো ৬ মাস বাকি রয়েছে। বন্দরের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেলে রাজস্ব আয়ও বাড়বে।