রাজধানীর মতিঝিল ও মহাখালী এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রশিবির ঝটিকা মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, শিবিরকর্মী ও পথচারীসহ ১০/১২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে শিবিরকর্মীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বগুড়ায় পুলিশের সামনে শিবিরকর্মীরা মিছিল করেছে।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে সকাল ১০ টার দিকে শিবির একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। শিবিরকর্মীদের পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট এবং ঘাড়ে ছিল ব্যাগ। মিছিলটি ইত্তেফাক মোড়ের কাছে পৌঁছালে সেখানে শিবিরকর্মীরা পরপর কয়েকটি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ এসে শিবিরকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। মুহূর্তের মধ্যে ইত্তেফাক মোড় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শিবির কর্মীরা এসময় রাস্তায় কয়েকটি বাসে হামলা চালায়। এতে বাসের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে কয়েকজন বাস যাত্রী আহত হন। পুলিশ শিবিরকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ছুঁড়লে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। একপর্যায়ে শিবিরকর্মীরা রামকৃষ্ণ মিশন রোড দিয়ে পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে, একই সময়ে মহাখালী রেলগেট এলাকা থেকে শিবিরকর্মীরা একটি মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে একটি ককটেল ছুঁড়ে মারে। তবে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের গায়ে না লেগে ককটেলটি মাটিতে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ করে। ঘটনাস্থল থেকে মমিনুর রহমান (১৮) নামে এক শিবিরকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
রাজশাহী : গতকাল দুপুরে রাজশাহী মহানগরীতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত: ৩০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৯ শিবির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর সোনাদীঘি মোড় থেকে শিবিরকর্মীরা বেলা ২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কিছুদূর অগ্রসরের পরই পুলিশের একটি টহলভ্যান সামনে পড়ে। এসময় মিছিল থেকে ঐ পুলিশ ভ্যানে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এরপর বিপুলসংখ্যক পুলিশ রাজারহাতা, মালোপাড়া ও মনিচত্বর থেকে শিবিরের মিছিলকে ঘিরে ফেলে এবং লাঠিচার্জ করে। শিবিরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল বিনিময় ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিবিরকর্মীরা পুলিশের উপর বৃষ্টিরমত ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। জবাবে পুলিশ প্রায় অর্ধশত রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এভাবে শিবিরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের আধঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে সোনাদীঘির মোড়, রাজারহাতা, হেতেমখাঁ, সবজিপাড়া ও মালোপাড়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে শিবিরকর্মীরা অন্তত: ৬/৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সংঘর্ষে পুলিশসহ জামায়াত-শিবিরের ৩০ জন আহত হয়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার এসএম মনির-উজ-জামান বলেন, পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এ সময় শিবিরের এককর্মী পুলিশের রাবার বুলেটে আহত হয়। পুলিশেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগর শাখার আমির আতাউর রহমান ও সেক্রেটারি ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর এক যুক্ত বিবৃতিতে দাবি করেন, রাজশাহীর সোনাদিঘী মোড়ে শিবিরের মিছিল শুরুর পূর্বেই পুলিশ লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও গুলি করে ১৫ জনকে জখম এবং ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বগুড়া : পুলিশের কঠোর নজরদারিকে বিফল করে দিয়ে বগুড়ায় ঝটিকা মিছিল করেছে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের খান্দার এলাকা পর্যন্ত যায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিবিরের কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন সেলিম, বগুড়া শহর শিবির সভাপতি আলাউদ্দিন সোহেল। এসময় সমাবেশ থেকে কয়েকশ’ গজ দূরে একজন সাব ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে ৪জন পুলিশকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ সহিদ আলমের নেতৃত্বে বিপুলসংখক পুলিশ শহরের শিবির অধ্যুষিত এলাকা আযিযুল হক কলেজ সংলগ্ন জামিলনগর, সেউজ গাড়ী, পুরান বগুড়া এলাকায় অভিযান চালায় । তবে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।
