টাঙ্গাইলে গণধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর চিকিত্সায় মেডিক্যাল বোর্ড

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২০
টাঙ্গাইলের মধুপুরে গণধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর সুচিকিত্সায় গতকাল ৭ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও নিউরো মেডিসিন বিভাগের প্রধান কাজী দ্বীন মোহাম্মদকে। এছাড়া হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) কো-অর্ডিনেটর ডা. বিলকিস বেগম বোর্ডের সদস্য সচিব ও মানসিক রোগ বিভাগের প্রধান ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে অন্যতম সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢামেকের ওসিসি’র কো-অর্ডিনেটর ডা. বিলকিস বেগম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে গতকাল দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ আব্দুল মালেক ধর্ষিতা ওই স্কুলছাত্রীর চিকিত্সার খোঁজ-খবর নিতে ঢাকা মেডিক্যালে আসেন। এসময় তিনি কিছুক্ষণ ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্কুলছাত্রীর পাশে অবস্থান করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তার চিকিত্সায় প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান এসময় তার সঙ্গে ছিলেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী গণধর্ষণের শিকার মেয়েটির নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। এর প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হাসপাতালে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার একান্ত সচিবের মাধ্যমে জানিয়েছেন, নির্যাতিতা মেয়েটির সুচিকিত্সার খরচসহ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন তিনি তা করবেন। মোস্তাফিজুর রহমান আরো জানান, নির্যাতিতার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তবে মানসিকভাবে সে এখনো স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেনি। মেয়েটি এখনো খাবার গ্রহণ করতে পারছে না। এ কারণে চিকিত্সকরা বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে তরল খাদ্য দিচ্ছেন। মেয়েটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ডা. বিলকিস বেগম জানান, অসুস্থ মেয়েটি মানসিক দিক থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠছে। তবে সে এখনো মুখে কোনো খাবার গ্রহণ করতে পারছে না। স্যালাইনের মাধ্যমেই তাকে খাবার দেয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ৭ ডিসেম্বর বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে বিথী আক্তার নামের এক বান্ধবী নির্জন পাহাড়ি বাড়িতে নিয়ে যায় নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে। সেখানে পাষণ্ডরা তাকে ৩ দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০ ডিসেম্বর সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকায় রেল লাইনের পাশে মেয়েটিকে অপরাধীরা ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা লোকলজ্জার ভয়ে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা শেষে বাড়িতে নিয়ে যায়। এতে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ওই স্কুল ছাত্রী। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গত সোমবার ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। মঙ্গলবার তাকে ওসিসিতে আনা হয়। এদিকে টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, মধুপুরে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সচেতন নাগরিক সমাজ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল শাখা, ড্যামোক্রেসিওয়াচ, সুপ্র, দুর্বার নেটওয়ার্ক, ঢেউ, সেবক, স্বরণী, নারী মুক্তি সংঘসহ কয়েকটি সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যোগ দেয়। এখান থেকে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।