যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পরিবারের অবৈধ সদস্যরা বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। গত বুধবার ওবামা প্রশাসন এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন আলাদাভাবে বাস করা হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসী তাদের পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবেন। খবর এনডিটিভির
দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি জেনেট নেপোলিতানো গত বুধবার এই নীতিমালা ঘোষণা করেন। আইন অনুযায়ী যেসব পরিবারের স্বামী, স্ত্রী এবং সন্তানরা অবৈধভাবে বাস করছেন তারা বৈধ হওয়ার (গ্রিন কার্ডের) আবেদন করতে পারবেন। আগামী ৩ মার্চ থেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র গ্রহণ করবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা গত এক বছর আগে অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু আইন চূড়ান্ত করার আগে তারা এ বিষয়ে জনগণের মতামত গ্রহণ করে এবং আইনটি যাচাই বাছাই করে। নতুন নীতিমালার ফলে বিদেশে জন্মগ্রহণকারী স্বামী বা স্ত্রী, শিশু এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাতা-পিতার জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়া সহজ হবে। এসব অভিবাসী অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাদের ভিসার জন্য নিজ দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট অফিসে যেতে হতো। ১৯৯৬ সালের নীতিমালা অনুযায়ী কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতো তাহলে সে সহজে ফিরে আসতে পারতো না। তাকে ৩ বছর অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধ ছিল। অনেক সময় অনেক অভিবাসীর ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে আসতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো। নতুন আইনে মার্কিন পরিবারের সদস্যরা পুনরায় প্রবেশের জন্য ভিসা পাওয়ার আগে তাদের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আবেদন করতে পারবেন। কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী এক্ষেত্রে অভিবাসীদের হয়তো কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের যে সংস্থাটি গ্রিন কার্ড প্রদান করে সেই ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের পরিচালক আলেজান্দ্রো মেয়রকাস বলেন, এই আইনের ফলে বড় একটা সুবিধা পাওয়া যাবে। সেটি হলো ভিসা প্রক্রিয়ার সময়ও যুক্তরাষ্ট্রে বাস করা পরিবারের কোনো অবৈধ সদস্যকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ অভিবাসীদের সংগঠন আমেরিকান্স ফ্যামিলি ইউনাইটেড-এর প্রেসিডেন্ট র্যান্ডল এমারি বলেন, অভিবাসন আইনে এটা সামান্য পরিবর্তন হলেও একটি ভাল পদক্ষেপ।
