চার ব্যাংকে শৃংখলা ফেরাতে নিবিড় তত্ত্বাবধান শুরু

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২২
রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের আর্থিক শৃংখলা ফেরাতে এসব ব্যাংককে নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শুরুর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছে। আর আগামী ৫ দিনের মধ্যে বাকি তিন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, এক সময়ে ব্যাংক ব্যবসার সর্বাগ্রে সরকারি ব্যাংকগুলো থাকলেও ধীরে ধীরে অংশগ্রহণের পরিমাণ কমে আসছে। এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। আর এতে বাড়ছে প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) ঘাটতি। অন্যদিকে মূলধন পর্যাপ্ততাও ঋণাত্মক। ফলে কলমানির (স্বল্পমেয়াদে আন্ত:ব্যাংক ধার করা) পরিমাণও বাড়ছে। আবার এসব ব্যাংকের লোকসানী শাখাও দিন দিন বাড়ছে। সর্বোপরি গেল ২০১২ সালের পুরোটাই অনিশ্চয়তা ও বিশৃংখলার মধ্য দিয়ে গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের যখন এই অবস্থা ঠিক সে সময়েই নিবিড় তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছর রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে সমঝোতা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেয়। আর নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো চলছে কিনা তা তাদারকির জন্য ওই চার ব্যাংককে তিনমাস অন্তর একত্রে নিয়ে বসত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নিয়মে এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকে বসবে। বাংলাদেশ ব্যাংকসূত্রে জানা গেছে, চার ব্যাংকের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ব্যাংকিং হওয়ার কথা থাকলেও অনেকক্ষেত্রে তা হয় না। এজন্য আলাদা আলাদা সভায় ব্যাংকগুলোকে সঠিকভাবে নির্দেশনা দিতে ও তদারকি করতে নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়। একসঙ্গে সভা হলে এক ব্যাংক নিয়ে যখন কথা বলা হয় তখন অন্য ব্যাংকগুলো বসে থাকে। নতুন পদ্ধতি সময়ের অপচয় রোধ করবে বলেও জানান তারা। নতুন পদ্ধতি অনুযায়ী ৬ জানুয়ারি জনতা, ৭ জানুয়ারি অগ্রণী ও ৮ জানুয়ারি রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পরিচালন ব্যয়, মূলধন পর্যাপ্ততা, খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব সূচকের উন্নতি বিষয়ে জোর দেয়ার জন্য তাদেরকে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। সূত্র জানায়, বিধি মেনে সেপ্টেম্বর ভিত্তিতে এসব ব্যাংক মূলধন সংরক্ষণে সক্ষম হলেও এদের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে এক হাজার ১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এদিকে দুই ব্যাংক ব্যাসেল-২ নিয়মানুযায়ী ক্যাপিটাল এডুকোয়েসি রেশিও (সিএআর) বা মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাতে ঘাটতিতে আছে। সেপ্টেম্বর শেষে সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি রয়েছে ৩৭৯ কোটি ও রূপালী ব্যাংকের ৭৪ কোটি টাকা। লোকসানি শাখাও কমছে না এসব ব্যাংকের। একইসঙ্গে সামগ্রিক ব্যাংকখাতের মধ্যে এই চার ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে সোনালীর এক হাজার ৭৩৩ কোটি, জনতার এক হাজার ২০১ কোটি ৯৮ লাখ, অগ্রণীর এক হাজার ৭৬৯ কোটি ৬৪ লাখ ও রূপালীর ১৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা। এছাড়া লোকসানি শাখা, পরিচালন ব্যয়, ঋণ প্রবৃদ্ধি কোনোকিছুই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে পারেনি এসব ব্যাংক।