স্থানীয় প্রজাতির ধান বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তারা নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে এনেছে হারিয়ে যাওয়া দেশি প্রজাতির বিভিন্ন জাতের ধান বীজ। মান্দাতা আমল থেকে পূর্ব পুরুষেরা যে ধান ফলিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জনসহ খেয়ে পরে সুখে শান্তিতে বসবাস করত। সে সব ধানের বহু জাত বিদেশি ধানের চাপের মুখে বিলুপ্তের পথে রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বেসরকারি সংস্থা লোকজের সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে বিলুপ্ত প্রায় এসব ধানের বীজ সংগ্রহ করে বীজতলা তৈরির মাধ্যমে সে সব ধরে রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এখানেই শেষ নয়। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশি প্রজাতির ধানের একের সাথে অন্যের পরাগায়ণ ঘটিয়ে নতুন নতুন ধানের জাত তৈরি করা হচ্ছে। যে কারণে নতুন প্রজাতির ধানে লম্বা বাইল এবং ফলনে অধিক হওয়ায় চাষিরা ঝুঁকে পড়ছে। গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে চাষিদের একান্ত আগ্রহে গত তিন বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট জমিতে এসব বীজ ধান রোপণ করে ধানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কৃষকদের ধারণা, সরকারি ভাবে সহযোগিতা পেলে তারাই এই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দেশি প্রজাতির ধান ফলিয়ে ব্যাপকভাবে উন্নতি করতে পারবে।
লোকজের প্রচেষ্টায় উদ্বুদ্ধ কৃষকরা যে সব বিলুপ্ত প্রায় ধান বীজ সংগ্রহ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে সিলেট বালাম, কলমি লতা, চিনি কানাই, বি-আর ১১, বি-আর ২২, দুধকলম, বাঁশফুল বালাম, জটাই বালাম, তেইশ বালাম, চরো বালাম, রূপেশ্বর, কালজিরা, বেনাপোল, হলদে গোটাল, লালগোটাল, সাদাগোটাল, খেজুরছড়ি, কাচড়া, ময়নামতি, সাদামোটা, কালোমোটা, বজ্রমুড়ি, মরিচশাইল, জামাইনাড়ু, চাপশাইল, ভুটেচালট, সাহেবকচি, নাড়া জামাই নাড়ু, মহিনি সালট, ডাক শাইল, কমাড়া গোড়, রানী সালট, ক্যারাঙ্গাল, মন্তেশ্বর, মোতা, নোনা কচি, মঘাই বালাম, হোগলা, হাতি বড়জ, খ্যাক শাইল, কই জুড়ি, ঘুনসি, হরিশংক, পাটনাই, কুটে পাটনাই, তাল মুগুর, হামাই, ইঞ্চি, ১টি ধানে ২টি চাল (সতীন), স্বর্ণা, বেনাপোল, জাবড়া, কালকুচ, গোপাল ভোগ, রত্না, বেগুন বিচি, দুর্গা ভোগ, খাইনল, খেজুর ছড়ি (বালাম), ভোলানাথ, গোচী, রাজাশাইল, তিলেক কুচি, হরিধান, দারশাইল, কাটিগোচ্চা, মুড়া বাজাল, মালাগেথি, বৌ সোহাগী, সুধা, কাটারী ভোগ, লিলি, লাল মোটা। এসব ধানের বীজ লোকজ তার নিজস্ব বীজ তলায় ফেলে অতি যত্নে বীজ তৈরি করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করছে। গত ২৫ ডিসেম্বর লোকজ গঙ্গারামপুরে এক কৃষক মাঠ দিবসের আয়োজন করে। লোকজের নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রসাদ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসের সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শান্তি মনি চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিবিদ বুদ্ধদেব সেন, বটিয়াঘাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শেখ আব্দুল হামিদ, সম্পাদক এসএম ফরিদ রানা। বক্তব্য রাখেন কৃষক শুসিল কুমার রায়, গোলাম ফারুখ, আয়ুব আলী, বরুণী কুমার প্রমুখ। এসময় স্থানীয় কৃষাণ কৃষাণীসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি ধান ক্ষেতে নেমে বীজতলা ও ফলিত ধান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
