সাইনুসাইটিস: কারণ ও প্রতিকার

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:০৭
সাইনুসাইটিস অতি পরিচিত একটি সমস্যা। মুখমন্ডল তথা মাখার খুলির চারিদিকে চার জোড়া বায়ুভর্তি কুঠুরি থাকে। এই কুঠুরিগুলোকেই বলা হয় সাইনাস। সাইনাসগুলোর বিভিন্ন নাম আছে। সাইনাসের অভ্যন্তরীন আবরণ হিসাবে থাকে একধরণের ঝিল্লি। এই ঝিল্লির প্রদাহকেই বলা হয় সাইনোসাইটিস। সাইনোসাইটিস সাধারণত ঠাণ্ডা ও ভেজা পরিবেশ, ধোঁয়া, ধূলোবালি ইত্যাদি পরিবেশ সাইনোসাইটস হওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ হিসাবে বিবেচিত। মাথার খুলিতে অবস্থিত এই সাইনাসের বিভিন্ন কাজ রয়েছে। বলা হয়ে থাকে এইসব সাইনাস নাকের মধ্যস্থিত বাতাসকে উষ্ণ ও আর্দ্র রাখে। মাথাকে হালকা রাখে এবং খুলির বিভিন্ন অঙ্গকে রক্ষা করে। সাইনোসাইটিস অনেক কারণে হয়ে থাকে। সাধারণভাবে যে সব কারণে হতে পারে সেগুলো হচ্ছে-নাকের ইনফেকশন, নাকের প্যাক, নাকের বাঁকা হাড়, নাকের মাংস ফুলে বড় হয়ে যাওয়া (হাইপারট্রফাইড ইনফিরিয়র টারবিনেট), নাকের পলিপ ইত্যাদি। দূষিত পানি কিংবা উচ্চমাত্রার ক্লোরিনযুক্ত পানিতে গোসল করলে পানি সাইনাসে প্রবেশ করে ইনফেকশন করতে পারে। আবার যে কোন আঘাতের কারণে সাইনাস ছিদ্র হয়ে উন্মুক্ত হলে ইনফেকশন হতে পারে। দাঁতের ইনফেকশন মাড়ির একদম শেষ প্রান্তের দুটি দাঁত তুলে ফেলার সময় দাঁতের গোড়া দিয়ে সাইনাস উন্মুক্ত হয়ে পড়তে পারে এবং ইনফেকশন হতে পারে। সাইনোসাইটিস-এর মূল উপসর্গ মাথা ব্যথা। এই ব্যথা চোখের নিচে এবং কপালে থাকে। এছাড়া মুখমন্ডল ও মাথার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যথা হতে পারে। কোন সাইনাসে ইনফেকশন হয়েছে সে অনুযায়ী এই ব্যথার অঞ্চল পরিবর্তিত হয়। তবে ব্যথা নাকের গোড়ায়, উপরের চোয়ালের উপরে, চোখের নিচে, কপালে ও মাথার পিছন দিকে যে কোন স্থানে হতে পারে। ফুলে যেতে পারে চোখের নিচের কিংবা উপরের অংশের পাতা। চিবুক কিছুটা লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে। নাকের ভিতরের পুঁজ একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যাবে। নাকের ভিতরের মাংসগুলো ফোলা থাকতে পারে। নাকের হাড় বাঁকা থাকতে পারে। নাকের পিছনে নাসাগলবিল অঞ্চলে অর্থাত্ আলজিভের পিছন থেকে আঠালো ঘন পুঁজ বেয়ে নেমে যাচ্ছে- এমনটি দেখা যাবে। শারীরিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে- গা ম্যাজম্যাজে ভাব, জ্বর, শরীর ব্যথা ইত্যাদি। শুধু এক্স-রে করেই সাইনোসাইটিস সম্পর্কে জানা যায়। সাইনোসাইটিসের চিকিত্সার উদ্দেশ্য হচ্ছে নাকের মধ্যে সাইনাসের বর্হিগমনের রুদ্ধ পথগুলো খুলে দেয়ার মাধ্যমে সাইনাসের বর্হিগমন পথকে সুগম রাখা। সেই সঙ্গে সাইনাসের ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণ করা। ইনফেকশনজনিত ব্যথা থাকলে তা কমিয়ে আনা। এই সব কিছু করার জন্য যথাযথ এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে। নাকে বিশেষ ধরনের ড্রপ দিতে হয় এন্টি হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খেতে হয়। ব্যথার জন্য দেয়া যেত পারে ব্যথানাশক। হঠাত্ তীব্র কিংবা ক্রনিক বা বারবার হওয়া সাইনোসাইটিস যাই হোক না কেন প্রথমে ওষুধ দিয়ে চিকত্সা করতে হয়। ওষুধে না সারলে অপারেশনের মাধ্যমে চিকিত্সা করতে হয়। একসময় এই সমস্যার জন্য সাইনাস ওয়াশ করা হত। এখন যথাযথ এন্টিবায়োটিকের জন্য সাইনাস ওয়াশের প্রয়োজনীয়তা কমে এসেছে। এছাড়া প্রচলিত সাইনাসের অপারেশনের পরিবর্তে এন্ডোস্কোপিক সার্জারি খুব গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। সবদিক বিবেচনায় কার্যকর ও রোগীর কম ভোগান্তির জন্য ফাংশনাল এন্ডোস্কোপিক সাইনাস সার্জারি খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখন সাইনোসাইটিস নিয়ে অযথা ভুগতে হয় না। তবে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সা না নিলে হতে পারে বিভিন্ন জটিলতা। সুতরাং জটিলতা এড়াতে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চেম্বার: কমফোর্ট ডক্টরস চেম্বার গ্রীন রোড, পান্থপথ, ঢাকা