গতবছর রেকর্ড সংখ্যক খুনের ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়া জেলায়। সন্ত্রাসীদের বর্বরতা ও পৈশাচিকতা বিগত প্রায় সব বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বছর জুড়েই চলেছে একের পর এক হত্যাকাণ্ড। এসব লোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণে সমগ্র জেলা জুড়ে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়। গতবছর বিভিন্ন সময়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে ১১৩টি।
২০১২ সালে জেলায় প্রথম খুনের ঘটনাটি ঘটে ৭ জানুয়ারি। এদিন কুষ্টিয়া শহরে ছয় বছরের মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করে এক পাষণ্ড পিতা একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মকর্তা আহকামুল আলম। গতবছর উল্লেখযোগ্য হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ছিল- ২৭ জানুয়ারি কুষ্টিয়া শহরতলির চাঁদাগাড়া মাঠে রাতে মোস্তাফিজুর রহমান কর্নেল (২২) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে জবাই করে দুর্বৃত্তরা। ১৩ এপ্রিল কুমারখালীর পান্টি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ আল মঞ্জু শেখ (১৮) নামের এক শিবির কর্মী নিহত হয়। সে উপজেলার পান্টি চেয়ারম্যানপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। ১৫ জুলাই কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আকিজ বিড়ি কারখানায় মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে আনসারের গুলিতে দুই শ্রমিক মিন্টু (৩৮) ও রাকিবুল (২২) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। একই দিন ১৫ জুলাই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় নিল চাঁদ (১৪ মাস) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে সদর উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। ১৭ জুলাই কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আকিজ বিড়ি কারখানার গুলিবিদ্ধ কালু নামে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ১০ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার ময়রামপুর গ্রামে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় ইমারুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি খুন হয়। ২৩ আগস্ট দৌলতপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে সাহাজুল ইসলাম (২৫) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়। এ বছরের সব থেকে আলোচিত হত্যকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২৮ আগস্ট, এদিন কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পদ্মাপাড়ের শিলাইদহঘাট এলাকায় এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৩ জনকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হচ্ছেন: ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম (৪৭), তার সঙ্গী আফজাল (৪৫) ও ভুট্টো (৪৫)। ১২ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পদ্মার চরে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে চরমপন্থি সংগঠন গণমুক্তি ফৌজের আঞ্চলিক নেতা ও টিক্কাবাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড তোফাজ্জেল হোসেন ওরফে তোফা মোল্লা (৪০) নিহত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রাহাত আলী ওরফে রাহাত (৪৫) নামে এক চরমপন্থি নেতা নিহত হয়। রাহাত কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত নওয়াব আলীর ছেলে। ৫ অক্টোবর কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং ডি ব্লকের একটি বাসা থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আবদুল লতিফের (৬৮) গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১১ অক্টোবর দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া সীমান্তে আলম হোসেন (৪২) নামে এক বাংলাদেশিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা। একই দিন ১১ অক্টোবর ভেড়ামারা থানা পুলিশ অজ্ঞাত এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। ভেড়ামারা হার্ডিঞ্জ ব্রীজের অদূরে রাস্তার পাশ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। ১৭ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সংঘবদ্ধ চোর দলের নিক্ষেপ করা বোমার আঘাতে ফজিলাতুন্নেসা (৪৫) নামে এক নারী নিহত হয়। সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় (২৫) এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উপজেলার ফিলিপনগর আবেদের ঘাট এলাকা থেকে ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
