সাতক্ষীরায় যক্ষ্মায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩১
সাতক্ষীরায় রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ২০ লক্ষাধিক জনগোষ্ঠী মারাত্মক যক্ষ্মা ব্যাধির ঝুঁকিতে রয়েছে। দুরারোগ্য এ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে জেলায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সাতক্ষীরায় যক্ষ্মা ঝুঁকি হ্রাসে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক কাজ করছে। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত সাতক্ষীরার বৃহত্ একটি জনগোষ্ঠী স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বছরের অধিকাংশ সময়ই তাদের বসবাস করতে হয়। এছাড়া বস্তি ও ঘনবসতি এলাকায় বসবাসকারী জনগণের মধ্যে যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তির হাচি-কাশির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ানো ছাড়াও পুষ্টিহীনতার কারণে এ রোগের দ্রুত বিস্তার ঘটে। বিগত ২০১০ সালে জেলায় সহস্রাধিক ব্যক্তির মধ্যে যক্ষ্মার ব্যাকটেরিয়া ধরা পড়ে। ২০১১ সালেও ১ হাজার ১ শত ব্যক্তি যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। এ সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বাড়ছে। ২০১২ সালের প্রথম ৯ মাসেই এ সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সাতক্ষীরায় ২০১০ সালেই যক্ষ্মায় আক্রান্তের মধ্যে ৫২ জনের মৃত্যু হয়। ২০১১ সালের প্রথম ৯ মাসে মারা গেছে ৩৮ জন। এর পরের তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় আসা রোগীরা দীর্ঘমেয়াদী চিকিত্সাসেবা নিতে অনীহার কারণে এ মৃত্যু ঘটছে। অন্যদিকে যথাসময়ে চিকিত্সাসেবা না নেয়াও মৃত্যুর কারণ। সূত্র আরও জানায়, সাতক্ষীরায় ব্র্যাকের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতাধীন ৩৮৪টি কফ সংগ্রহ কেন্দ্র আছে। কফ টেস্টের জন্য আছে ৫টি পেরিফেরাল ল্যাব। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাঃ এস জেড আতিক জানান, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় আসা রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিত্সাসেবা নিতে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি যথাসময়ে চিকিত্সাসেবা নিলে এবং নিয়ম মেনে ঔষধ সেবন করলে যক্ষ্মায় রোগ ভাল হয়ে যায়। সাতক্ষীরাকে যক্ষ্মা মুক্ত করতে বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি সকলকে আসার আহবান জানান তিনি।