লক্ষ্মীপুরের সদর ও কমলনগরের সীমান্তবর্তী মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনের মহোত্সব চলছে। একটি প্রভাবশালী মহল নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় মেঘনা নদীর ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয় উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে যে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, বালু উত্তোলনের ফলে ওই বাঁধ নির্মাণ কাজ ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে বালু উত্তোলনকারী ওই প্রভাবশালী মহল ও তাদের ভাড়াটে লোকজনের সাথে এলাকাবাসীর সংর্ঘষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে, এ বালু উত্তোলন বন্ধ করে কমলনগর রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান আবুল বারাকাত দুলাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর ও কমলনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী মেঘনা নদীর মতিরহাট এলাকায় জেগে ওঠা চরশামছুদ্দিন ও কাঁকড়ার চরের বেলাভূমি ঘেঁষে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর সদর এলাকার মেসার্স মাহবুব ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দু’টি ড্রেজার মেশিন (বাইব্রেটিং হাই-হাইড্রোলিক পাম্প) দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। ভাড়াটে প্রায় শতাধিক লোক রাতদিন অব্যাহতভাবে কাজ করে প্রতিদিন গড়ে লক্ষাধিক ঘনফুট বালু উত্তোলন করছেন। এভাবে প্রতিদিন এক লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের ফলে জেগে ওঠা ওই নতুন চরের কূলঘেঁষে গভীরতা তৈরি হয়ে নদী ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
