মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা জমে উঠতে শুরু করেছে। মেলা প্রাঙ্গণ গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় ছিল লোকারণ্য। ছোট-বড়, কিশোর-কিশোরী, যুবক, বৃদ্ধ সবারই সমাগম মেলা প্রাঙ্গণে ছিল। সব স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। আগের দিনগুলোর তুলনায় গতকাল জনসমাগম ছিল অনেক বেশি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দর্শনার্থী তেমন না থাকলেও বিকালে লোকজনের স্রোত ছিল মেলা প্রাঙ্গণের দিকে। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই লোকজনের ভিড়ে মেলার মাঠ ভরে যায়। টিকেট কাউন্টারের সামনে ছিল দীর্ঘ লাইন। গাড়ির পার্কিংয়ের নির্ধারিত জায়গা বিকালের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশেই ছিল গাড়ির দীর্ঘ লাইন। ফলে সন্ধ্যায় গাড়ি ও লোকজনের চলাচলে অসুবিধা হয়। মিরপুর-ফার্মগেট সড়কে ছিল দীর্ঘ যানজট ।
কর্মব্যস্ত জীবনের ছুটির দিনটাকে উপভোগ করার জন্য অনেকেই গতকাল মেলা প্রাঙ্গণে চলে এসেছেন। কেনাকাটা কম হলেও অনেকে দেখতে এসেছেন পছন্দের পণ্য, স্টল ও প্যাভিলিয়ন। কেউ কেউ বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে পছন্দের জিনিসগুলো ক্রয় করেছেন। আবার পরবর্তী সময়ে কেনার জন্য কেউ পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিচ্ছেন। আগের দিনগুলোর তুলনায় গতকাল ব্যবসায়ীরা বেশি বিক্রি করেছেন। ব্যবসায়ীরা জানায়, মেলা শুরুর পর গতকালই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। তবে লোকজনের তুলনায় বিক্রি হয়েছে কম। দর্শনার্থীরা স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে আসছেন, ঘুরে ঘুরে পণ্য দেখছেন এবং পণ্যের সুযোগ-সুবিধা জানছেন। সামনের সপ্তাহে বেশি বিক্রি করতে পারবেন বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন। শীতের কাপড়, গৃহাস্থলী, ইলেকট্রোনিক্স, প্রসাধনী, শিশুদের খেলনা, খাবার, আয়ুর্বেদীয় ফার্মেসিসহ এবারের বাণিজ্য মেলায় প্রায় শতাধিক স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে। এসব স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় গতকাল সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
আজিমপুর থেকে গতকাল স্বপরিবারে মেলায় এসেছে মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, মেলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো এসেছি। আমি ও আমার স্ত্রী চাকরি করি। তাই মেলায় আসার সুযোগ হয়নি। ছুটির দিনে সুযোগ পেয়ে বাচ্চাদেরও নিয়ে এসেছি। বাচ্চাদের জন্য কিছু খেলনা এবং খাবার কিনলাম। অনেকগুলো স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে পছন্দের জিনিসগুলো দেখে গেলাম। সামনের সপ্তাহের ছুটির দিনে এসে কিনবো।
