ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পিকনিকের বাস ও একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছে। নিহত ও আহতদের মধ্যে বাস ও ট্রাকের চালক ব্যতীত অন্যরা বাসের যাত্রী বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হাড়িসর্দার নামক স্থানে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতরা জানান, বাসটি ঢাকার বিএসটিআই স্টাফ কোয়ার্টার থেকে পিকনিক করার জন্য চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে সাফারি পার্কের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে যাত্রা শুরু করে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রামগামী পিকনিকের ওই যাত্রীবাহী বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা মাল বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২টি গাড়ির সম্মুখ অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ট্রাকচালক ফরিদপুরের মধুখালীর বাঘাড় গ্রামের মৃত জাবেদ মোল্লার ছেলে মন্টু মোল্লা (৩৮), বাসচালক ময়মনসিংহের গৌরীপুরের আটগ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মাত্বর (৪০), একই উপজেলার সুরুজ মিয়ার ছেলে আবদুল হাকিম (৪২), ঢাকার বিএসটিআই স্টাফ কোয়ার্টারের আলী আশ্রাফের ছেলে কামাল পাশা রতন (৪০), কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার শাকতলা গ্রামের মৃত ওহাব আলীর ছেলে মফিজ মোল্লাসহ (৩৫) ৬ জন নিহত হয়। আহতরা জানান, চৌদ্দগ্রামের হাড়িসর্দার এলাকায় বেপরোয়া গতিতে আসা ট্রাকের সাথে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আশংকাজনক অবস্থায় ১১ জনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মারাত্মক আহতরা হচ্ছে বাসযাত্রী গাউছুর রহমান, আল আরাফাত, ফরহাদ, সোহেল, জাফর আহমদ, ঋতু, মহিউদ্দিন, নাজমুল হাসান, সৈকত, আজিম, ইমরান, নুর মোহাম্মদ, সালাউদ্দিন, লিংকন, গোলাম রাব্বী, সেতু বেগম, মুরাদ ও নয়ন। অন্য আহতদের কুমিল্লা ও চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।
রায়গঞ্জে পথচারী নিহত
বিক্ষুব্ধ জনতার ভাংচুর
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, রায়গঞ্জে বাসের চাপায় এক পথচারী নিহত হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা গাড়ি ভাংচুর করেছে। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে গতকাল শুক্রবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার নলকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় আবদুল মজিদকে (৪০) বগুড়া থেকে ঢাকাগামী বাস ‘হানিফ পরিবহন’ চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। নিহত যুবক সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার বানিয়াগাঁতী গ্রামের কছিমুদ্দিনের পুত্র।
মতলবে ট্রাক্টরে পিষ্ট
রিক্সাচালকের মৃত্যু
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইসমাইল হোসেন (২৫) নামে রিক্সাচালক গতকাল শুক্রবার সকালে নিহত হয়েছে। সে উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার শিকিরচর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে। ইসমাইলের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ছেংগারচর বাজার-শটাকী পাকা রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করে। সোমবার বিকেলে ইসমাইল হোসেন ট্রাক্টরের চাপায় মারাত্মকভাবে আহত হয়। ওইদিনই ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সকালে তার মৃত্যু ঘটে।
নোয়াখালীতে নিহত ২
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার সোনাপুর-চরজব্বর সড়কের উত্তর ওয়াপদা বাজারের পাশে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মোটরসাইকেল চালক জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও বাসের হেলপার হেলাল উদ্দিন (৩০)। আহতদের ৫ জনকে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, হাতিয়ার স্টিমারঘাট থেকে সোনাপুরগামী সুবর্ণ সুপার সার্ভিসের বাস ওয়াপদা বাজারের পাশে মোটরসাইকেলের সাথে সংঘর্ষ হয়। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সাথে ধাক্কা লাগে এবং বাসের ভিতর গাছ ঢুকে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাসের হেলপার ও মোটরসাইকেল চালককে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে তারা মারা যায়। নিহত মোটরসাইকেল চালক জাহাঙ্গীরের বাড়ি সদর উপজেলার পূর্ব শুল্লুকিয়া ও হেলপার হেলাল উদ্দিনের চরমজিদ গ্রামে।
