দলীয় চিকিত্সক দিয়ে বিশ্বজিতের ময়না তদন্ত রিপোর্ট করা হয়েছে

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৮
ঘাতকদের রক্ষার জন্য বিশ্বজিত দাসের লাশের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন দুর্বল করে তৈরি করা হয়েছে। হত্যাকারীদের সাজা কমাতেই দলীয় চিকিত্সককে দিয়ে সরকার এই প্রতিবেদন করিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্বজিতের বাবা অনন্ত চন্দ্র দাস। বিশ্বজিতের বড় ভাই উত্তম কুমার দাস ময়না তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে প্রতিবেদন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্বজিতের বাবা, মা ও ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন সংগঠনের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নিহত বিশ্বজিতের শরীরে পঁচিশটি কোপের দাগ ছিল; যা পত্রিকার মাধ্যমে জানা গেছে। অথচ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিত্সক মাকসুদুর রহমান ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে একটি কোপের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। খুনিদের রক্ষার জন্যই ময়না তদন্ত দুর্বল করা হয়েছে। এ ধরনের ময়না তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করার অর্থই হলো আদালতে বিচারের রায়ে আসামিদের কোন গুরুতর শাস্তি হবে না। বিশ্বজিতের খুনিদের শাস্তি দাবি করে গোবিন্দ চন্দ বলেন, প্রকৃত খুনির শাস্তি হোক। তবে নির্দোষ কেউ যেন শাস্তি না পায়। সাংবাদিক সম্মেলনে আরো দাবি করা হয়, বিশ্বজিতের লাশের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া চিকিত্সক ও সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী সুত্রাপুর থানার এসআইকে গ্রেফতার করতে হবে। এছাড়া বিশ্বজিতের পরিবারকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্বজিতের মা কল্পনা রাণী দাস বলেন, ‘আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’ গত ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের কাছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ক্যাডাররা পিটিয়ে ও কুপিয়ে পথচারী বিশ্বজিতকে হত্যা করে।