যে বয়সে কিশোররা সাধারণত কম্পিউটার গেম খেলাতেই ব্যস্ত সময় কাটায়, সেই বয়সী একজনকে প্রোগ্রামার হিসেবে কল্পনা করা শক্ত বটে। তবে সেই কষ্টকল্পিত বিষয়টিই বাস্তবে পরিণত করেছে আমাদের বাংলাদেশেরই কিশোর শিশির চক্রবর্তী। মাত্র ১৩ বছর বয়সে জেন্ড সার্টিফিকেট অর্জন করে সে বিশ্বের কনিষ্ঠতম প্রোগ্রামার হিসেবে নাম লিখিয়েছে আর গর্ব নিয়ে এসেছে গোটা দেশের জন্যই। সদ্য শেষ হয়ে যাওয়া ২০১২ সালে ম্যাপল লিফ স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে শিশির। ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটারের সাথে তার সখ্যতা। কম্পিউটারে গেম খেলতে খেলতে একসময় ইন্টারনেটের অলিগলিতে প্রবেশ করতে শুরু করে সে। আর তারপর ইন্টারনেটের পেছনের বিষয়গুলোতে, যেমন ওয়েবসাইট তৈরি বা ওয়েবসাইটের কর্মপদ্ধতি বিষয়গুলো নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয় তার। আর এর পরেই সে শখের বশেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ে পড়ালেখা শুরু করে। প্রোগ্রামিং শিখতে সে দ্বারস্থ হয় আইবিসিএস-প্রাইমেক্সে-এর। সেটা ২ থেকে আড়াই বছর আগের ঘটনা। শুরু থেকেই প্রোগ্রামিংয়ে মেধার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করে শিশির। তার মেধার নমুনাতে মুগ্ধ হয়েই তাকে সব ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে থাকেন প্রশিক্ষক মাসুদ আলম। ধীরে ধীরে পিএইচপি, জাভার মতো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজগুলো আয়ত্ত্বে নিয়ে আসতে থাকে শিশির। বিশ্বব্যাপী ওয়েবসাইট এবং ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে পিএইচপি একটি স্বীকৃত এবং বহুল ব্যবহূত প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। ফেসবুক বা ইয়াহুর মতো সাইটগুলোও পিএইচপি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। পিএইচপি শিখতে শিখতে শিশির সিদ্ধান্ত নেয় পিএইচপির সনদ পরীক্ষা দেওয়ার। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সে অবতীর্ণ হয় পিএইচপি ৫.৩ সার্টিফিকেশন পরীক্ষায় এবং সাফল্যের সঙ্গে সেই পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে শিশির কেবল বাংলাদেশেরই নয়, বিশ্বের কনিষ্ঠতম জেন্ড সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার (জেড সিই) হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বাংলাদেশের জেড সিই’র সংখ্যা মাত্র ৫২ জন। আর বিশ্বব্যাপী এ সংক্রান্ত জেন্ড সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার আছেন মাত্র ৫ হাজারের কিছু বেশি। কনিষ্ঠতম জেডসিই সার্টিফিকেট তাই শিশিরের জন্য এক বিশাল অর্জন। এত অল্প বয়সে জেন্ড সনদ পেয়েও সবকিছু পাওয়া হয়ে গেছে বলে ভাবছে না শিশির। বরং সে মনে করে এই হলো চলার শুরু। বর্তমানে সে জেন্ড ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে কাজ শিখছে আইবিসিএস-প্রাইমেক্স-এ। নিজের মেধা আর শ্রম দিয়ে সে প্রোগ্রামিং জগতে গুরুত্বপূর্ণ এক স্থান দখল করতে চায়।
