কৃষি খাত:প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির ২০১২

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫৮
বিদায় ২০১২। হাঁটি হাঁটি পা করে পার হয়ে গেল আনকোরা ২০১৩ সালের আরো কয়েকটা দিন। প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি, সাফল্য ব্যর্থতা সবই ছিল গত বছরটিতে। তবে সাফল্য দিয়ে শুরু করতে চাই- গত বছরই জিনবিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে বিশ্বব্যাপী ৫০০ টি উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকারক এক প্রকার ছত্রাকের জীবন-রহস্য উন্মোচন করেছেন। ম্যাক্রোফমিনা ফ্যাসিওলিনা নামক এই ছত্রাকের আক্রমণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং জৈব উপাদান কমে যাওয়ার ফলে ফসলের উত্পাদন ৩০ থেকে ৭০ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ছত্রাকের জীবন-রহস্য উন্মোচনের ঘটনাটি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। অনেক প্রতিকূলতা ও ঝুঁকি থাকলেও অনুকূল আবহাওয়া, উপকরণের সহজলভ্যতাসহ নানা কারণেই অধিকাংশ এলাকায় গত বছর ধানের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে। ৪৭ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টন চাল। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো অন্তত ৫০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যার কারণে উত্পাদিত চালের পরিমাণ ২ কোটি টন ছাড়িয়ে গেছে। আমনের উত্পাদন ভাল হওয়ার কারণে গত বছর উত্পাদন হয়েছে এক কোটি ৩৩ লাখ মেট্রিকটন। বর্তমান সরকার গত চার বছরে দেশের কৃষি অর্থনৈতিক খাতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত করেছে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, জমি কমছে, মানুষ বাড়ছে তারপরও আমরা চাহিদার অতিরিক্ত উত্পাদন করছি। আর তা হয়েছে সরকারের কৃষি ও কৃষকবান্ধব নীতির কারণেই। এখন কৃষক সার, বীজ নিয়ে উত্কণ্ঠায় থাকে না। ক্ষুদ্র সেচ, যান্ত্রিক সহায়তা, ভাল বীজ ও সারের দাম কমানোর সুফল আজ কৃষকের ঘরে ঘরে। শুধু ধান না সব ফসলের ফলন বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, খরা সহিষ্ণু, লবণাক্ততা সহিষ্ণু ও সুগন্ধি ধান উত্পাদনে সরকার জোর দিয়েছে। সবজিতে কৃষকরা বিপ্লব ঘটিয়েছে। সারা বছর তারা পাতাকপি, ফুলকপি, টমেটো বাজারে সরবরাহ করছে। এ বছর পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ আমদানি কমেছে। অর্থবছরের চার মাস কৃষি ঋণ বিতরণের চেয়ে আদায় হয়েছে বেশি। এটা হয়েছে কৃষি ও কৃষকবান্ধব নীতির কারণে। ২ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিধারণ কমিটির বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খাদ্য নিয়ে আমাদের কোনো সংকট নেই। বর্তমানে মোট সাড়ে ১৪ লাখ মেট্রিকটন খাদ্য মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ১২ লাখ টন চাল এবং আড়াই লাখ টন গম। আমরা উন্নতমানের চাল রফতানি অব্যাহত রাখব। মোটা চাল রফতানির চিন্তা-ভাবনা করছি। ইরি’র (বাংলাদেশ) কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. এম. জি. নিয়োগী জানান, ২০১২ সনে ইরির সহযোগিতায় বাংলাদেশ পারমাণবিক গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধানের জাত বিনা ধান-১০ উদ্ভাবন করেছে। জাতটি ১২ ডিএস/মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে পারবে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বোরো মৌসুমে ১৩০ দিন জীবনকাল সমৃদ্ধ এই জাতটি লবণাক্ত অঞ্চলে ৬ টন/হেক্টর পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। অলবণাক্ত অঞ্চলে এই জাতটি ৮ টন/হেক্টর পর্যন্ত ফলন দিতে পারবে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) গত বছর ব্রি ধান-৫৮ জাতের ধান উদ্ভাবন করে, যা বোরো মৌসুমের ব্রি ধান-২৯ এর চেয়ে ৫ থেকে ৭ দিন সময় কম লাগবে ও ৭.৫ টন/হেক্টর পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। ইরি ধানের জাত উদ্ভাবন করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর, এনজিও এবং বীজ উত্পাদনকারী সংস্থার সহযোগিতায় প্রতিকূলতা সহিষ্ণু ও নতুন উদ্ভাবিত ধানের জাত সরাসরি কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে। গত বছর ইউএসএইড এর আর্থিক সহযোগিতায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ৬ লাখেরও বেশি কৃষক পরিবার এ জাতের ধানের বীজ ও প্রযুক্তি পেয়েছে। ২০১২ সালের সাফল্য উল্লেখ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ জার্মপ্লাজম সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. এম.এ. রহিম জানান, জার্মপ্লাজম সেন্টারের দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ৩২ রকমের ৫২২ টি ফলের জাত সংরক্ষণ বৈশিষ্ট্যায়ন ও অভিযোজন ক্ষমতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এসডিসি এর অর্থায়নে ও ইন্টারকোঅপারেশনের ব্যবস্থাপনায় সর্বমোট ২৮ টি মাতৃগাছের বাগান করা হয়েছে। ড্যানিডা-বীজ উইং এর অর্থায়নে বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টার কর্তৃক উদ্ভাবিত জাতগুলো দেশের ২০ টি জেলার ৪০ টি উপজেলায় ৫৭ টি মিশ্রফলের সমন্বয়ে সর্বমোট ৮০ টি মিশ্র ফল বাগান তৈরি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এডাপটেশন ট্রায়াল করা হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর মাধ্যমে ৮২ টি মিশ্র ফলের গাছ সমন্বয়ে ৩০ শতক জায়গায় সর্বমোট ৭১২ টি মিশ্র ফলের বাগান তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে জার্মপ্লাজম সেন্টার কর্তৃক মুক্তায়িত গ্রামীণ জনগোষ্ঠির পুষ্টি দূরীকরণে মাতৃবাগান করা হয়েছে। চাহিদা পূরণের বছর হিসেবে গত বছরকে উল্লেখ করে মাছ চাষি একেএম নূরুল হক জানান, মেরিন, আভ্যন্তরীণ এবং চাষ এই ৩ টি মিলিয়ে দেশে মোট উত্পাদন হচ্ছে প্রায় ৩১ লাখ টনের কাছাকাছি আর দেশের চাহিদা প্রায় ৩৩ লাখ টনের মত। কিন্তু আমার মতে ২০১২ সালে চাহিদার প্রায় সবটাই উত্পাদন করতে পারছি আমরা। এত সাফল্যের পরও বর্তমানে মাছ চাষের ক্রান্তিকাল চলছে। এক বছরের ব্যবধানে মাছের খাবারের মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজিপ্রতি ১১ টাকা। অথচ মাছের দাম না বেড়ে বরং কমেছে। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে সহযোগিতা করে খাতটিকে বাঁচিয়ে রাখবেন এটাই দাবি। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নাথুরাম সরকার জানান, প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৫০ ভাগ আসে প্রাণিসম্পদ খাত থেকে। দেশের জনসংখ্যার প্রায় ২০ ভাগ সরাসরি এবং ৫০ ভাগ পরোক্ষভাবে প্রাণিসম্পদ খাতের উপর নির্ভরশীল। বিগতবছরগুলোতে দেশে দুধের উত্পাদন বৃদ্ধি পেলেও বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে খামারিরা মার খাচ্ছে। অথচ ডেইরি শিল্পের প্রসার ঘটার অনেক সুযোগ রয়েছে দেশে। এখনো বাজার ব্যবস্থাপনার কারণেই দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে ২০ থেকে ৩০ টাকায় প্রতি কেজি দুধ বিক্রি করা হয় যা এক লিটার পানির দামের চেয়ে কম। পোল্ট্রি খাতের চলছে দুর্দিন। বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মো. মহসীন জানান, বার্ড ফ্লু, বাচ্চা ও খাবারের দাম বৃদ্ধি, বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রাসন, সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা, ভারত থেকে ডিম ও বাচ্চা আমদানিসহ নানা কারণে পোল্ট্রি খাতে গত কয়েক বছরে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অথচ গ্রামীণ অর্থনীতি, বেকারত্ব দূরীকরণ ও আমিষের চাহিদা মেটাতে এ খাতের কোনো বিকল্প নেই। এক হিসেবে দেখা যায়, ২০১০ সালে যেখানে খামার ছিল ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৭৬৩ টি সেখানে ২০১১ সালে এসে ৪৭ ভাগ খামার বন্ধ হয়ে যায়। আগে এ পেশায় ছিল ৫৬ লাখ খামারি আর বর্তমানে রয়েছে ৪১ লাখ। অথচ এর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে প্রায় এক লাখের মত মানুষ। সরকার পোল্ট্রি খাতের দিকে নজর না দিলে স্থবির হয়ে যাবে এ খাতের কার্যক্রম। প্রাপ্তি আপ্রাপ্তি নিয়ে প্রফেসর ড. মো. সদরুল আমিন বলেন, ২০১২ সালে দেশের কৃষি সম্ভাবনার উল্লেখ করার মত সফলতা ঘরে তুলতে পারেনি। বিগত বছরের অনুকূল আবহাওয়া বেসরকারি কৃষি সম্প্রচার ও বেসরকারি অনেক উদ্যোগ হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে। কৃষির জিডিপির হার কমেছে। কারণগুলো হল- কৃষকের কৃষিপণ্যের মূল্য হ্রাস, কৃষির সকল ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ হ্রাস, কৃষি জনবল হ্রাস, কৃষি শিক্ষায় ও চাকরির প্রতি চরম অবহেলা এবং সারা বছর এক ডাকে অসত্য কৃষিতথ্য প্রচারকে নিয়ন্ত্রণ না করা। এই সমস্যাগুলোর আলোকে সুপারিশে বলতে হয়- কৃষি কস্টিং করা, কৃষিতে মূল অর্থে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বাজেট বৃদ্ধি, ১৬ কোটি মানুষের কৃষি সেবার জন্য প্রশিক্ষিত কৃষি জনবল তৈরিকে অগ্রাধিকার দেয়া, কৃষি শিক্ষার প্রসার নিশ্চিত করা এবং কৃষি বিষয়ে অসত্য তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা। তা না হলে বিগত কয়েক বছরের কৃষির প্রতি প্রদর্শিত অবহেলার ফলাফল ভোগ করতে হবে আগামী এক যুগ। হয়নি কী? কী হওয়ার কথা ছিল? যদি এমন প্রশ্ন আসে তাহলে প্রথমে আসে দেশের কৃষকরা ধান-পাটের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। এক মণ ধান উত্পাদন করতে কৃষকের খরচ হয় সাড়ে ৫’শ টাকা সেখানে ধানের বাজারদর ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। আবার কোনো কোনো এলাকাতে তারও কম। কোথাও মণপ্রতি কৃষক ৫০ থেকে ১০০ টাকা লাভ পেলেও তার উত্পাদনের পরিশ্রম, পণ্য পরিবহন ইত্যাদি হিসাব করে সে দিশেহারা হয়েছে। পাটের ক্ষেত্রেও একই কথা। পাট চাষ করেও কৃষক তুলতে পারছে না উত্পাদন খরচ। দেশে সর্বোচ্চ পরিমাণ আলু উত্পাদিত হলেও কোল্ডস্টোরেজের অভাবে ও দাম না পাওয়ায় আলু নিয়ে কৃষকের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিগত বছরগুলোসহ ২০১২ সালেও কৃষিতে সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দেখা দেয় বাজার ব্যবস্থাপনা। এর পেছনে নীতি নির্ধারণী বড় ধরনের ব্যর্থতা রয়েছে। কৃষিপণ্যের জোনিং পদ্ধতি কার্যকর না করা, এলাকাভিত্তিকভাবে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ না করে দেয়া এবং সর্বোপরি বাজার ব্যবস্থার মধ্যে সরকারের বা কৃষকের কারোরই নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে, কৃষক পদে পদে মার খাচ্ছে। খোদ কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক হিসেবে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন দেশের গ্রামাঞ্চলের ১৯৭ একর জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে, বছরে যাচ্ছে ৭২ হাজার ৭৭ একর। আর প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে একটি গবেষণা তথ্য কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রচার করেই চলেছে যে, প্রতিদিন দেশের ২২০ হেক্টর কৃষি জমি চলে যাচ্ছে অকৃষি খাতে। এক শতাংশ হারে জমি কমছে। এই যখন অবস্থা তখন, ভূমি ব্যবহার নীতিমালা নিয়ে এই দীর্ঘসূত্রিতা কাম্য নয়। পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রয়েছে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে। এক্ষেত্রে অবশ্যই কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণসহ সকল ক্ষেত্রকে ঢেলে সাজাতে হবে। অঞ্চলভিত্তিক মাটি গবেষণা, বীজ গবেষণা ও উন্নয়ন, কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, কৃষকদেরকে সচেতন করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষিজমি রক্ষায় জরুরিভিত্তিতে নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ। কৃষির মধ্যে শিল্প, আবাসন কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কৃষিপণ্যের বাজার কাঠামোর একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। যাতে কৃষক তার উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়। এক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারকে বিজ্ঞানসম্মত, কার্যকর ও আধুনিক বাজার কৌশল নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। কৃষক উত্পাদন খরচের সঙ্গে কোনোভাবে পুষিয়ে উঠতে না পারলে বাধ্য হবে অন্য পেশায় যেতে। এক্ষেত্রে অন্তত কয়েকটি কৃষিপণ্যের মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে কৃষক কখনোই লোকসানের শিকার না হন। কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য একদিকে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, অন্যদিকে বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান কৃষির বিভিন্ন উপকরণ বাণিজ্যে নেমেছে, তাদেরকেও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। যেকোনো মূল্যে কৃষককে সংগঠিত করতে হবে। প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে একটি কৃষিভিত্তিক সংগঠন সবখানে গড়ে তুলতে না পারলে কৃষক কোনোভাবেই তার অধিকার বাস্তবায়ন করতে পারবে না।