তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সমাবেশে নেতারা অবিলম্বে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সরকারের ভুল নীতির কারণে জ্বালানি-বিদ্যুত্ খাতে যে ভর্তুকির কথা বলা হয়েছে তার দায় জনগণ নেবে না।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারসহ জাতীয় কমিটির সাত দফা দাবিতে আগামী ১১ জানুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
জাতীয় কমিটির ঢাকা নগর আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আবু বকর রিপন। বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, জাতীয় কমিটির সংগঠক ও সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবি ঢাকা নগর নেতা খান আসাদুজ্জামান মাসুম। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, ওয়ার্কার্স পার্টির রাগীব আহসান মুন্না, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী, বাসদের জুলফিকার আলী, কমিউনিস্ট লীগের মোশারফ হোসেন নান্নু, জাতীয় গণফ্রন্টের আবু তাহের, বাসদ (মাহবুব)-এর মইনুদ্দিন চৌধুরী লিটন, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির শামসুল আলম, গণমঞ্চের মাসুদ খান প্রমুখ।
সমাবেশে প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, সরকার বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করে আমাদের জ্বালানি খাত ধ্বংস করছে। এবারে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে কৃষকের উত্পাদন ব্যয় বাড়বে। এমনিতেই কৃষক তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। তার উপর উত্পাদন ব্যয় বাড়লে এর ভার সাধারণ কৃষক সইতে পারবে না। যাতায়াত ব্যয়, দ্রব্যমূল্য বেড়ে অর্থনীতিতে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার জ্বালানি তেলের যে ভর্তুকির কথা বলছে তার দায় জনগণ নেবে না। কারণ এই ভর্তুকির বড় অংশ যাচ্ছে রেন্টাল-কুইক রেন্টালের নামে তেলভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে মাত্র এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পেতে প্রতি বছর এই খাতে ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। অথচ মাত্র কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করে পুরাতন বিদ্যুত্ কেন্দ্র নবায়ন-মেরামত ও সমপ্রসারণ করলে এসব কেন্দ্র থেকে এক হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পাওয়া যেত।
তিনি বলেন, আইএমএফ-এর কাছ থেকে তিন বছরে ১০০ কোটি টাকা ঋণ পেতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোসহ যেসব গণবিরোধী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তা অপ্রয়োজনীয়। মাত্র ২৫ দিনে বিদেশে অবস্থানরত শ্রমজীবী মানুষ ১০০ কোটি টাকা দেশে পাঠান। তাই বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কথা বলে এধরনের ঋণের দায় জনগণ নেবে না।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছে। অথচ তাদের আমলে একাধিকবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিএনপি-আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের পকেট কাটা গেলেও জ্বালানি বিষয়ে এই দুই দলের কোনো নীতিগত পার্থক্য নেই।
‘বিদ্যুত্ ও তেলের মূল্যবৃদ্ধি রোধে আইনের আশ্রয় নেয়া হবে’
কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলেছে, অযৌক্তিকভাবে বার বার বিদ্যুত্ ও তেলের দাম বাড়ানো ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার সামিল। লাগামহীন দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। মূল্যবৃদ্ধি রোধে প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেয়া হবে।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ক্যাবের পক্ষ থেকে এই কথা বলা হয়। সম্মেলনে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের বিদ্যুত্ ও জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম। ক্যাবের সভাপতি কাজী ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভুঁইয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা বিদ্যুতের দাম আবার না বাড়াতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) প্রতি আহ্বান জানান। কাজী ফারুক বলেন, অযৌক্তিকভাবে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি রোধে ভোক্তারা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবে।
