যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর চাক হ্যাগেলকে বেছে নিতে পারেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেট্টার উত্তরসূরি হিসেবে হ্যাগেলের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন পর্ষদের সূত্রগুলো। খবর রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমস এর।
গত ডিসেম্বরে হ্যাগেলের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ইসরাইলপন্থী রক্ষণশীল দল এবং সমকামীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা। ইরান ও ইসরাইল ইস্যুতে তার ভূমিকা এবং একজন সমকামী দক্ষ রাষ্ট্রদূত হতে পারেন কি না এমন মন্তব্য করায় তার বিরোধিতা শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে নিজের করা মন্তব্যের জন্য গত মাসে ক্ষমা চান হ্যাগেল। সমকামীদের নিয়ে ১৯৯৮ সালে করা নিজের মন্তব্যকে ‘অসংবেদনশীল’ বলেন তিনি। গত বছরের মে মাসে এক টিভি সাক্ষাত্কারে হ্যাগেল আফগানিস্তান ইস্যুতে বলেছিলেন, আফগানিস্তানে আমরা সমস্যার মধ্যে আছি এবং ১২ বছর পরও আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না যে, আমাদের লক্ষ্য কি।
হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে, হ্যাগেলের নিয়োগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি এবং তাকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানোও হয়নি। তবে তার এলাকার জনগণ এবং তার বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তার নিয়োগের বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত। গত মাসে এনবিসি টেলিভিশনের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ওবামা হ্যাগেলকে ‘দেশপ্রেমিক’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। আজ অথবা আগামী বৃহস্পতিবার কিংবা আগামী সপ্তাহে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন ওবামা। হাওয়াইতে ছুটি কাটানো শেষে আজ কাজে ফিরতে পারেন ওবামা। তবে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের ওয়াশিংটন সফরের আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ইতোমধ্যে বিরোধীদের চাপের মুখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সুসান রাইস। এ পদের জন্য ওবামার প্রথম পছন্দ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তবে হ্যাগেলের মনোনয়ন নিয়ে কাজ করা একজন রিপাবলিকান কর্মকর্তা জানান, সিনেটের অনুমোদন পেতে বেশ বেগ পেতে হবে হ্যাগেলকে। লড়াইটা বেশ জটিল হতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
