জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চব্বিশ ঘণ্টা যেতে না যেতেই ফ্রি-স্টাইলে যানবাহনের ভাড়া বাড়ানো শুরু হয়েছে। রাজধানীতে সিটি সার্ভিসের বাস-মিনিবাসের ভাড়া বাড়েনি, কিন্তু আন্তঃজেলা রুটে বেশি ভাড়া আদায় করা নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের সাথে গত দুইদিন যাত্রীদের বচসা হয়েছে। অথচ এসব পরিবহনের সিংহভাগই সিএনজি চালিত বলে জানা গেছে। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল কোচগুলো এখনো বাড়তি ভাড়া নেয়া শুরু করেনি। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, নতুন ভাড়া নির্ধারণের জন্য চলতি সপ্তাহেই তারা যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে সরকারের সাথে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই ইচ্ছেমত পরিবহন ভাড়া বাড়ানো অযৌক্তিক বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ। বিআরটিএ সূত্র জানায়, অনেক আগে থেকেই শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বাস-মিনিবাস বিকল্প হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার সংযোজন করেছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস বা সিএনজিতে চালালেও অযৌক্তিকভাবে বাস ও মিনিবাসগুলো ডিজেলে চলাচলের ভাড়া নিচ্ছে।
বিআরটিএ-এর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, বাস ও মিনিবাসে ডিজেল ও সিএনজি দটো ব্যবস্থাই রয়েছে। সিংহভাগ বাস-মিনিবাসই সিএনজির মাধ্যমে চলাচল করে। স্বাভাবিকভাবে ভাড়া কম হওয়ার কথা। অথচ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ডিজেল খরচের হিসেবে। ইতিপূর্বে সিএনজি ব্যবহার বন্ধ করার ব্যাপারে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
সরকার গত বৃহস্পতিবার রাতে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়িয়েছে। এর পরদিন শুক্রবার থেকেই বিক্ষিপ্তভাবে আন্তঃজেলা রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসে বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু হয়। গতকাল শনিবার রাজধানীর তিনটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে বর্ধিত ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের বচসা করতে দেখা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, তেলের দাম বেড়েছে বলে রাতারাতি সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে। অর্থাত্ ১০০ টাকার ভাড়া ১৫০ টাকা, ২০০ টাকার ভাড়া ২৬০ টাকা, ৩০০ টাকার ভাড়া ৩৭৫ টাকা, ৪৫০ টাকার ভাড়া ৫৫০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে বাড়তি ভাড়া আদায় করার অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে।
পরিবহন শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুধু ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাড়তি ভাড়া নেয়ার কথা নয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু গত শুক্রবার ভোর থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক ঘুরে যেতে হয়। তাই বর্তমানে বাড়তি ভাড়া নেয়া ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প কোন পথ খোলা নেই। তাদের বক্তব্য:প্রতিলিটার ডিজেলের দাম ৬১ টাকা থেকে সাত টাকা বাড়িয়ে ৬৮ টাকা করা হয়েছে। একটানা পাঁচ দিন সেতু বন্ধ থাকার কারণে প্রায় দ্বিগুণ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে। এতে করে বাড়তি দামে ডিজেল কিনে সেতু বন্ধ হওয়ার আগে যে ভাড়া ছিলো তা দিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে গেলে বড় ধরনের লোকসানের বোঝা টানতে হবে। অনেক পথ ঘুরে চলাচল করার জন্য পরিবহন মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলাচলকারী বাস-মিনিবাসে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এসব জেলার বাস-মিনিবাস দুই সেতু বন্ধ থাকার কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ব্যবহার করে চলাচল করছে। অপরিদকে সিলেট বিভাগ ছাড়াও গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চল এবং মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় চলাচলকারী বাস-মিনিবাসগুলোও বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। তবে রাজধানী থেকে চলাচলকারী বিলাসবহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি পরিবহন কোম্পানি আগের ভাড়াতেই চলাচল করছে। এ ব্যাপারে সোহাগ পরিবহনের একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারের সাথে আলোচনা ছাড়া ভাড়া বাড়ানো হবে।
